সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন নির্ধারণে কমিটি

সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণে সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫ গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানকে সভাপতি করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ৯ সদস্যের এই কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি প্রয়োজনে তিন বাহিনীর জন্য পৃথক সাব-কমিটি গঠন করতে পারবে এবং যেকোনো সংস্থা বা ব্যক্তির সহায়তা নিতে পারবে। জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য নিরসন ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিশেষ দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে সুপারিশ প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে সশস্ত্র বাহিনীর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ, রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জহির উদ্দিন, এয়ার ভাইস মার্শাল রুসাদ দীন আছাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অং চ ছা মং, এয়ার কমোডর জামিল উদ্দিন আহম্মদ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিলিয়া শারমিন ও ক্যাপ্টেন মো. তৌহিদ সাগর। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিশাদুল ইসলাম খান কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বেতন-ভাতা, অবসর সুবিধা, পারিবারিক পেনশনসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধার সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, উৎসব ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা যৌক্তিকীকরণ এবং বেতনক্রমের অসংগতি দূরীকরণে সুপারিশ প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে কাজ করবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটিকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের পদ্ধতি নিরূপণ, যথোপযুক্ত বা সময়োপযোগী পেনশনসহ অবসর সুবিধা নির্ধারণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের মান নিরূপণ বা মূল্যায়ন করে বেতন-ভাতা কাঠামোয় প্রতিফলন, সরাসরি সেবা-সংক্রান্ত প্রাধিকার আর্থিক সুবিধায় নগদায়ন এবং রেশন সুবিধা যৌক্তিকীকরণের সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। তাছাড়া উচ্চতর গ্রেড ও ইনক্রিমেন্ট প্রাপ্তিতে বেতনক্রম নিরীক্ষায় কোনো অসংগতি পরিলক্ষিত হলে তা দূরীকরণের সুপারিশ, বেতনক্রমের বিদ্যমান অসংগতি পুনঃপরীক্ষাপূর্বক বাহিনীগুলোর মধ্যে বিরাজমান বেতন-ভাতার বৈষম্য (যদি থাকে) দূরীকরণের সুপারিশ দিতে বলা হয়। পিতা-মাতাসহ অনূর্ধ্ব ছয়জনের একটি পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে কমিশনকে সুপারিশ করতে বলা হয়।  কমিটি সুপারিশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে নিজস্ব নীতি ও পদ্ধতি অনুসরণ করবে। প্রয়োজনবোধে দেশের যেকোনো সংস্থার কাছে যেকোনো তথ্য চাইতে পারবে এবং যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার সহায়তা নিতে পারবে।