চান্দুরা-আখাউড়া সড়কে খানাখন্দ, দুর্ভোগ লাখো মানুষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সঙ্গে আখাউড়া উপজেলার সংযোগের একমাত্র সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে বিজয়নগর অংশের  প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়কের বেহালদশা।

উপজেলার এ সড়কের পিচ, ইট, পাথর উঠে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে এসব খানাখন্দে। এ সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহন।  এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে পরিবহন মালিক, স্টাফ, যাত্রী ও উপজেলার লাখো মানুষ। এই সড়ক সংস্কারের অভাবে হেঁটে চলাচলও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সড়কে সৃষ্ট হওয়া গর্তে প্রায়ই আটকে যায় গাড়ি। এতে করে যাত্রীরা যেমন পড়ে বিপাকে তেমনি ভাবে নষ্ট হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এ সড়কের উপজেলার সিঙ্গারবিল বাজার পার হতেই ভাঙ্গাচোরা সড়ক চোখে পড়ে। চম্পকনগর থেকে আমতলী পর্যন্ত সড়কের পুরোটাতেই পিচ উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের।

এ সড়ক মাঝে মাঝে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হয় বলে যানবাহনের বেশ চাপ আছে। এছাড়া জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সড়কের কিছু অংশ ব্যবহার করতে হয়।

সড়কটির বেহালদশার কারণে যাত্রী দুর্ভোগ এখন চরমে। ২৭ কিলোমিটারের এ সড়কে ভাড়া বেড়ে ৮০ টাকার বদলে এখন ১২০ টাকা। ৪৫-৫০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে দেড় ঘন্টারও বেশি। সড়কটি স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, সড়কটি মেরামতে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে কাজ শুরু হতে প্রায় তিন মাসের মতো লাগতে পারে।

তানজিনা নামে এক শিক্ষার্থী  বলেন, সড়কে এত বড় বড় গর্ত থাকলে তো আর চলা যায় না। আমরা খুব কষ্ট করি এ সড়ক দিয়ে চলতে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক নাছির মিয়া বলেন, গাড়ি চালাতে গিয়ে আমরা যেমন কষ্ট করি যাত্রীদেরও কষ্ট। আগে সারাদিনে পাঁচ থেকে ছয়বার যাওয়া-আসা করতাম। এখন দুই-তিনবারের বেশি সম্ভব হয় না।

এলজিইডি এর বিজয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশিকুর রহমান ভূইয়া জানান, সড়কটি মেরামতে একটি প্রকল্পের ইস্টিমেট তৈরি করা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে সড়কের কাজ শুরু করতে আরো তিনমাস লাগতে পারে বলে তিনি ধারণা দেন।