২০০৮ সালের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) সংশোধনের প্রস্তাবিত খসড়া বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রধান অংশীজনদের মতামত সংগ্রহের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সিলেটে ও কোম্পানীগঞ্জে দুটি কর্মশালার আয়োজন করে।
এ প্রস্তাবিত সংশোধনের লক্ষ্য হলো সম্প্রতি সংশোধিত পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (পিপিএ), ২০০৬-এর সঙ্গে বিধিমালা সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, যাতে সকল অংশীজনের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়। কর্মশালায় ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) সম্পর্কিত বিষয়গুলোও আলোচিত হয়। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)-এর বিপিপিএ আয়োজিত এবং বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রামস (বিসিসিপি) পরিচালিত সিলেটের এ কর্মশালায় আইএমইডি সচিব মো. কামাল উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিপিপিএ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এস. এম. মঈন উদ্দীন আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন।
সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী বিশেষ অতিথি হিসেবে কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন এবং সিলেট জেলার নতুন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম সিলেটের কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন।
বিপিপিএ-এর পরিচালক (উপসচিব) শাহ ইয়ামিন-উল ইসলাম কর্মশালায় পিপিআর ২০০৮ সংশোধনের প্রস্তাবসমূহ উপস্থাপন করেন।
সিলেটের কর্মশালায় কর্মশালায় বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ( আইএমইডি)-এর সচিব বলেন, “পিপিএ ২০০৬ ইতোমধ্যে সংশোধিত হওয়ায় আমরা বিদ্যমান পিপিআর ২০০৮ সংশোধনের কাজ করছি। আইনটি কার্যকর করতে পিপিআরের সংশোধন প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, কারো কারো একচেটিয়া কাজ পাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নতুনদের সরকারি ক্রয়কার্যে সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। সচিব অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ টেনে বলেন সেখানে বড় বিক্রেতারা রাতে ছোট বিক্রেতাদের জন্য স্থান ছেড়ে চলে যায়।
তিনি আরও বলেন, “সংশোধিত পিপিআর যেন বাস্তবসম্মত ও অংশীজনদের জন্য উপযোগী হয়, সেজন্য আমরা বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিচ্ছি।” এ সময় তিনি উপস্থিত সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং গঠনমূলক পরামর্শের আহ্বান জানান।
পিপিআর সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিপিপিএ-এর সিইও এস. এম. মঈন উদ্দীন আহমেদ বলেন, “আমরা চাই নতুন দরদাতারা যেন সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন।” তিনি বলেন, “পিপিআরের সংশোধনী চূড়ান্ত করার জন্য বিপিপিএ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “গত দেড় মাসে আমরা বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ করেছি। এখন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রকিউরিং এন্টিটি এবং দরদাতাদের সঙ্গেও আলোচনা করছি।”
তিনি জানান, পিপিআরের প্রস্তাবিত সংশোধনী খসড়া বিপিপিএ-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, এবং সকল অংশীজনকে ২৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখের মধ্যে মতামত জানানোর আহ্বান জানান।
২১ আগস্ট বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অনুরূপ একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।