দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় পর কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে গোলাগুলি শব্দ শোনা গেছে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাত ১১ থেকে শুরু হওয়া গোলার শব্দ শনিবার (২৩ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত শুনতে পায় সীমান্তের লোকজন।
টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা চৌধুরী লালু বলেন, “গত রাত থেকে ভোর পর্যন্ত থেমে থেমে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের কুমিরখালী, শীলখালী ও সাইডং এলাকা থেকে ব্যাপক গোলাবারুদের শব্দ ভেসে এসেছে।’
উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা মো. হোসাইন বলেন, “রাখাইনে এখনো অমানবিক নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ফলে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসা বন্ধ হচ্ছে না। মূলত প্রাণে বাঁচতে তারা এপারে পালিয়ে আসার চেষ্টা করছে। সীমান্তে বেশকিছু রোহিঙ্গা জড়ো হচ্ছে বলে আমারও জেনেছি স্বজনদের কাছ থেকে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সাথে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে এখনও মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা। সর্বশেষ শুক্রবার ৬২ জন রোহিঙ্গাকে প্রতিহত করা হয়েছে। এখনো সীমান্তের ওপারে হাজরো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান।
বিজিবির অধিনায়ক বলেন, কিছু লোক সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা কাউকে ঢুকতে দিচ্ছি না। যেসব পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছে, সেখানে আমরা টহল বৃদ্ধি করেছি। পাশাপাশি গেল রাতে সীমান্তের ওপার থেকে গোলার শব্দের বিষয়টি জেনেছি। কিন্তু সেটি আমার ইউনিটের বাইরে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, সীমান্তে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্তক অবস্থানে রয়েছে।