শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসে মুত্তিয়া মুরালিধরন আর সনাথ জয়াসুরিয়ার নাম উচ্চারণ করলে এখনো ভক্তরা পড়ে যান নস্টালজিয়ায়। একদিকে বিশ্বের সর্বকালের সেরা স্পিনার, অন্যদিকে ওয়ানডে ক্রিকেটের ব্যাটিং বিপ্লবের কারিগর। সেই দুই কিংবদন্তির সন্তানরাই এবার মুখোমুখি হয়েছেন মাঠে, একটি ঘরোয়া ক্লাব ম্যাচে।
কলম্বোর ঐতিহ্যবাহী পি. সারা ওভাল মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সিংহলী স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) বনাম তামিল ইউনিয়নের লড়াই। এসএসসির হয়ে খেলছেন জয়াসুরিয়ার ছেলে রানুক জয়াসুরিয়া, আর তামিল ইউনিয়নের হয়ে নামছেন মুরালিধরনের ছেলে নরেন মুরালিধরন। ম্যাচটি ঘিরে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট মহলে ইতোমধ্যেই জমে উঠেছে কৌতূহল।
কিংবদন্তিদের উত্তরাধিকার
নরেন মুরালিধরন এখনো শুরুর পর্যায়ে আছেন। মাত্র চারটি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচে নাম লিখিয়েছেন, করেছেন ২৫ রান। টি-টোয়েন্টিতে আছে ১১ রান আর ২ উইকেট। তবে তার বাবা মুরালি ক্রিকেট ইতিহাসের এক অনন্য রেকর্ডের মালিক। টেস্টে ৮০০ উইকেট, ওয়ানডেতে ৫৩৪ উইকেট—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ১৩৪৭ উইকেট তার ঝুলিতে। কবজির মোচড়ে করা ভেলকিবাজি ‘দুসরা’ ক্রিকেট ইতিহাসেই বিরল এক রহস্য।
অন্যদিকে রানুক জয়াসুরিয়া আছেন প্রতিশ্রুতিশীল ব্যাটারদের তালিকায়। বাঁহাতি ব্যাটার হিসেবে বাবার পথেই হাঁটছেন তিনি। কয়েক বছর আগে নেট প্র্যাকটিসে বাবার সঙ্গে ব্যাটিং করার ছবি ভাইরাল হয়েছিল। ঘরোয়া লিগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেছেন, এসএসসির হয়ে অনূর্ধ্ব–২৩ টুর্নামেন্টে অভিষেকেই করেছিলেন অর্ধশতক। এমনকি ইংল্যান্ডের ডোরসেট লিগেও খেলেছেন। আর তার বাবা জয়াসুরিয়া ছিলেন ওয়ানডে ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার—১৩ হাজার ৪৩০ রান আর ৩২৩ উইকেট, সঙ্গে টেস্টে প্রায় সাত হাজার রান এবং ৯৮ উইকেট।
দুই প্রজন্মের সংযোগ
ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এই ম্যাচ যেন অতীত আর ভবিষ্যতের মিলন। যারা বাবাদের মাঠ মাতানো সময়টা চোখে দেখেছেন, তাদের কাছে ছেলেদের লড়াই নতুন আবেগের জন্ম দিচ্ছে। অনেকের মতে, আগামী বছর জিম্বাবুয়ে–নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য যুব বিশ্বকাপে এই দুই তরুণকেই দেখা যেতে পারে শ্রীলঙ্কার জার্সিতে।