ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসি বাসের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বর্ধিত বাস ভাড়া স্থগিত করা হলেও প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের নেতারা। তাদের দাবি, সরকারের নতুন প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে না। এছাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসি নন-এসি বাসের সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং অন্তত ২৫টি এসি বাস ৬০ টাকায় চালু করতে হবে। পাশাপাশি বর্তমানে চলমান এসি বাস 'ঢাকা নগর পরিবহন'-এর ভাড়া দ্রুত কমিয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। তাছাড়া টার্মিনাল থেকে চাষাড়া পর্যন্ত পাতাল সংযোগের মাধ্যমে ডাবল লাইনে মেট্রোরেল চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, “যেখানে জ্বালানি তেলের দাম কমছে, সরকারের নতুন কোনো প্রজ্ঞাপন নেই, সেখানে ভাড়া বাড়ানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও গণবিরোধী।”

তিনি অভিযোগ করেন, “জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে পরিবহন সিন্ডিকেটকে উৎসাহিত করা হয়েছে। যদিও জনরোষের মুখে জেলা প্রশাসক সিদ্ধান্তটি স্থগিত করেছেন, তবে তিনি তা ‘বাতিল’ না করে কেবলমাত্র ‘স্থগিত’ করেছেন, অর্থাৎ যেকোনো সময় আবার কার্যকর করার সুযোগ রয়ে গেছে।”

রফিউর রাব্বি বলেন, “সারা দেশে গণপরিবহন খাতে অরাজকতা দীর্ঘদিনের। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পরিবহন খাত ছিল ওসমান পরিবারের অন্যতম চাঁদাবাজির ক্ষেত্র। স্থানীয় প্রশাসন ও বিআরটিএ বরাবরই এ খাতে সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দিয়েছে।” 

তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সাবেক নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান পরিবহন খাত থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকার চাঁদাবাজির সাথে জড়িত ছিলেন বলে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর নারায়ণগঞ্জের পরিবহন সিন্ডিকেটের অনেকে পালিয়ে যায় বা গা ঢাকা দেয়। এ বাস্তবতায় যেহেতু আর কাউকে চাঁদা দিতে হচ্ছে না, তাই জনগণের প্রত্যাশা—ভাড়া কমবে। কিন্তু উল্টো ভাড়া বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গত নভেম্বর মাসে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও এসি বাসের ভাড়া ৭০ টাকা ঠিক করা হয়। পরবর্তীতে একটি কোম্পানি ৮০ টাকায় সার্ভিস চালু করে, যা প্রশাসনের নীরব সম্মতিতেই বহাল রয়েছে। অথচ ভাড়া কমানোর দাবিতে দেওয়া আবেদন জেলা প্রশাসক আমলে নেননি। বরং বাস মালিকদের দাবিতেই তড়িঘড়ি করে ২০ আগস্ট ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেন।

এসময় যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের নেতারা ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল বিআরটিএ কর্তৃক জারি করা প্রজ্ঞাপনের অসংগতি তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ—প্রজ্ঞাপনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের দূরত্ব ভুলভাবে দেখানো হয়েছে। চাষাড়া, নতুন কোর্ট বা জালকুড়ি থেকে যাত্রী উঠলেও সবাইকে সমান ভাড়া দিতে হচ্ছে। বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের বাসগুলো শাপলা চত্বর না ঘুরলেও ভাড়া নির্ধারণে সেই রুট ধরা হয়েছে। ডিজেলের দাম কমলেও ভাড়া কমানো হয়নি।

যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের দাবি, সরকারের নতুন প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে না। এছাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসি নন-এসি বাসের সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং অন্তত ২৫টি এসি বাস ৬০ টাকায় চালু করতে হবে। পাশাপাশি বর্তমানে চলমান এসি বাস 'ঢাকা নগর পরিবহন'-এর ভাড়া দ্রুত কমিয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। তাছাড়া টার্মিনাল থেকে চাষাড়া পর্যন্ত পাতাল সংযোগের মাধ্যমে ডাবল লাইনে মেট্রোরেল চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিক নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ভবানী শংকর রায় ও বাসদ নেতা অসিত বরণ বিশ্বাস প্রমুখ।