প্রায় দশ মাস হতে চললো তাবিথ আউয়াল নের্তৃত্বাধীন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নতুন কমিটির। এই সময়ে অনেক গতিশীল হয়েছে ফেডারেশন। হাতে নেওয়া হয়েছে অনেক উদ্যোগ। তাই কমিটির নির্বাহী সভাগুলোর দৈর্ঘ্যও দিনে দিনে বড় হচ্ছে। এই যেমন রবিবার তারা পঞ্চম নির্বাহী সভায় বসেছিল। ছয় ঘন্টার বেশি সময় ধরে তারা অনেকগুলো এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করেছে। কিছু কিছু সিদ্ধান্তও নিয়েছে। তবে সিদ্ধান্তের বেশিরভাগই প্রকাশ করেনি কমিটি। ১১ এজেন্ডার সভা শেষে অবশ্য বাফুফের সদস্য ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু সাফল্য এনে দেওয়া নারী ফুটবলারদের প্রতি বাফুফের সকল প্রতিশ্রুতি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে এশিয়ান কাপে সেরা প্রস্তুতির পরিকল্পনাই করা হচ্ছে নারী দলের জন্য। যদিও পরিকল্পনাগুলো খোলাসা করেননি তিনি।
দক্ষিণ এশিয়া থেকে বাংলাদেশের মতো এশিয়ান কাপে সুযোগ পেয়েছে প্রতিবেশী ভারতও। বাছাই উতরে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ভারতীয় নারী দলের প্রস্তুতি পরিকল্পনা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেয় সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। পরিকল্পনায় দেশের বাইরে গিয়ে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করার পাশাপাশি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে কমপক্ষে ১২টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার মতো বিষয়গুলো রেখেছে ভারত। সেই পরিকল্পনার জানার পর থেকেই সবার দৃষ্টি বাফুফের দিকে। রবিবারের নির্বাহী সভায় এশিয়ান কাপে নাম লিখানোর জন্য নারী দলকে অভিনন্দন জানায় বাফুফে। এটা জেনেই সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল শুকনো কথায় কেবল অভিনন্দন জানানোতেই কি শেষ দায়িত্ব? সাফ জয়ের পর যে মেয়েদের দেড় কোটি টাকা বোনাসের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেটা কী বাফুফে ভুলে গেছে? আরও তিন নির্বাহী সদস্যকে পাশে নিয়ে আমিরুল ইসলাম বাবু জানান, তারা কিছুই ভুলে যাননি, 'বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বর্তমানে যে অবস্থানে আছে আপনাদের নির্দ্বিধায় বলতে পারি আমাদের যে প্রতিশ্রুতিগুলো তাদের (নারী ফুটবলারদের) সঙ্গে রয়েছে আমরা শতভাগ পূরণ করব। আমাদের মেয়েরা এখন ভুটানের লিগ খেলছে। ভুটান থেকে কিছু মেয়ে আরেকটা জায়গায় (লাওসে) খেলতে গিয়েছে। তারা যখন দেশে আসবে তাদের সঙ্গে আমরা আলাপ আলোচনা সাপেক্ষে অন্যান্য জায়গা থেকেও যে ধরণের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে সব কিছু আমরা তাদেরকে বুঝিয়ে দিবে ইনশা আল্লাহ। সভায় আমাদের আলাপ আলোচনা হয়েছে এ ব্যাপারে এবং সহাসাই তাদেরকে এগুলো বুঝিয়ে দেব।'
'তারা যখন দেশে আসবে তাদের সঙ্গে আমরা আলাপ আলোচনা সাপেক্ষে অন্যান্য জায়গা থেকেও যে ধরণের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে সব কিছু আমরা তাদেরকে বুঝিয়ে দিবে ইনশা আল্লাহ'
এশিয়ান কাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রকাশ না করলেও বাবু জানিয়েছেন, মেয়েদের নিয়ে সেরা পরিকল্পনাই করছে বাফুফে, 'মেয়েদেরকে নিয়ে আমাদের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের কোচ (পিটার বাটলার) এখন দেশের বাইরে রয়েছেন। উনি এবং মেয়েরা যখন আসবে তাদের ঘিড়ে আমাদের অনেক পরিকলপনা রয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের কাছে একটা প্রস্তবও এসেছে। তা নিয়ে আমাদের সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে এখনই এটা আপনাদের জানাতে চাচ্ছি না। মেয়েদের আমরা খুব সুন্দর পরিসরে দেশের বাইরে অনুশীলনের ব্যবস্থা করব। ইতিমধ্যে দুইটা প্র্যাকটিস ম্যাচও চূড়ান্ত হয়েছে। মেয়েদের ঘিরে পরিকল্পনা সহসাই আপনাদের জানাব।'
দীর্ঘ সভায় ছিল অনেকগুলো এজেন্ডা। এর মধ্যে ২০২৪ সালের অডিট রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আয়-ব্যায়ের হিসাব দেওয়ার জন্য বাফুফে ফাইন্যান্স কমিটিতে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে। এছাড়া গত জুনে ঘরের মাঠে ভুটান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জাতীয় দলের দুই ম্যাচ আয়োজনের আয়-ব্যায়ের হিসাব উত্থাপণ করা হয় সভায়। দুই ম্যাচের হিসাব আলাদা করে দিতে বলা হয়। এ কারণে আয় ও ব্যায়ের অঙ্ক প্রকাশ করেনি বাফুফে। রেফারিজ কমিটি গঠন নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়। সেই কমিটিও তিন-চারদিনের মধ্যে প্রকাশ করার কথা জানান বাবু। এছাড়া বাফুফের প্রকিউরমেন্ট পলিসি হালনাগাদ করে অনুমোদন দিয়েছে নির্বাহী কমিটি। প্রকিউরমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী দাবী করেন, নতুন কমিটি প্রকিউরমেন্ট পলিশি বদলে ফেলার সুফল পেতে শুরু করেছে দেশের ফুটবল।
এছাড়া জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের জন্য সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত ৫ কোটি টাকা স্বচ্ছ্বভাবে ব্যয়ের সুবিধার্থে একটি পৃথক ব্যাংক হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তারুণ্য উৎসবে দেশব্যাপী আয়োজনের জন্য ফুটবলকে প্রথম প্রস্থে ৫ কোটি টাকা দিয়েছে। অতীতে সরকারী বরাদ্দ ভিন্ন খাতে ব্যবহার ও পরবর্তীতে যথাযথ হিসাব দিতে না পারায় ব্যপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল বাফুফেকে। কাজী সালাউদ্দিন নের্তৃত্বাধীন বিগত কমিটিকে দুই প্রস্থে ২০ কোটি টাকা দিয়েছিল সরকার। যার হিসাব ঠিকঠাক দিতে পারেনি বাফুফে। এবার যাতে তেমন কিছু না হয়, তাই পৃথক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরকারের বরাদ্দ ব্যবহারের পথে হাটছে তাবিথ প্রশাসন।
বাফুফের পঞ্চম নির্বাহী সভা রাজধানীর পূর্বাচলে একটি রিসোর্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে ২১ সদস্যের মধ্যে ২০জন উপস্থিত ছিল। ২০ জনের মধ্যে ১৭জন সশরীরে এবং তিনজন ভার্চুয়ালি সভায় যোগ দেন।