কালিয়াকৈরে দেশীয় অস্ত্রসহ ১১ ডাকাত গ্রেপ্তার

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ১১ জন ডাকাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ দুটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়। 

রবিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত সদস্যদের গাজীপুর আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- গাইবান্ধার পলাশবাড়ি থানার লক্ষীবাড়ি উত্তরপাড়া এলাকার আমিনুল ইসলামের ছেলে আনাছ রানা, একই জেলার সাদুল্লাপুর থানার পাকেরবাজার
এলাকার রাকিবুল ইসলামের ছেলে হাবিবুর রহমান, একই জেলার গোবিন্দদগঞ্জ থানার বেড়ামালঞ্চ এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে রাকিব হাসান, একই জেলার সদর থানার মিরপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে শুভ মিয়া ও একই এলাকার ইমান আলী আকন্দের ছেলে ইশরাফ আকন্দ খোকন, পাবনার বেড়া থানার বাটিয়াখোঁড়া এলাকার আব্দুল রশীদের ছেলে মো. রমজান, সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার পাকড়তলা এলাকার মোকাদ্দেস আলীর ছেলে হৃদয় হাসান, একই জেলার শাহজাদপুর থানার বাছামারা এলাকার হাফিজুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ সুজন, একই এলাকার শাহাদাত হোসেনের ছেলে সজল হোসেন, ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার ছনটেকি নৈহাটি এলকার আক্তার হোসেনের ছেলে (পালক) জুয়েল হোসেন, নেত্রকোনার পূর্বধলার নারায়নধর এলাকার মৃত আহাম্মদ আলীর ছেলে মো. জালাল মিয়া। এদের সকলের বয়স আনুমানিক ১৯ থেকে ৬০ বছর। 

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে একটি পিকআপে একদল ডাকাত কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা-সিনাবহ সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা  রাতে কালামপুর থেকে সিনাবহ এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিয়াকৈর থানার এসআই মো. ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টহল টিম ওই এলাকায় অভিযান চালায়। খবর পেয়ে পুলিশের আরো একটি টিমের তৎপরতা বাড়ানো হয়। পরে অভিযান চালিয়ে ওইদিন রাতে কালামপুর এলাকায় ডাকাত সদস্যদের বহনকারী পিকআপটি থামানোর সংকেত দেয় পুলিশ। কিন্তু ওই পিকআপ ভ্যানের চালক পুলিশের সংকেত অমান্য করে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। 

একপর্যায় পুলিশের ধাওয়ায় পাশের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ইকোটেক্সের সামনে ডাকাত সদস্য বহনকারী পিকআপটি আইল্যান্ডের ওপর উঠে যায়। এতে ডাকাত সদস্যরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ওই ডাকাত সদস্যদের শুভ মিয়া, রাকিব হাসান, আনাছ রানা, ইশরাফ আকন্দ খোকন ও হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। এ সময় অন্যান্য ডাকাত সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এছাড়াও গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত সদস্যদের মধ্যে একজন দুর্ঘটনায় আহত হলে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

অপরদিকে একটি কারখানার ৭৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকার মালামাল ডাকাতির ঘটনায় একই রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হৃদয় হাসান, সজল হোসেন, জুয়েল রানা, রমজান আলী, সুজন মিয়া ও জালাল মিয়া নামে আরো ছয় ডাকাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এখনো কারখানার লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা যায়নি।

পুলিশ বলছে, এসব ডাকাত সদস্যরা কালিয়াকৈর ও আশুলিয়া থানার বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া থেকে ডাকাতির কাজে লিপ্ত হতো। এদের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে।  

এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপারেশন যোবায়ের আহমেদ জানান, বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১১ ডাকাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের ব্যবহৃত দুটি পিকঅ্যাপ ও কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তবে পলাতক ডাকাত সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।