যুদ্ধ কিংবা জোরপূর্বক আনুগত্য চাপিয়ে দিয়ে জনগণ বা ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে বশ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি।
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরান কখনোই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না—এমন ধারণা নিছক বিভ্রম। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক মোকাবিলায় বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর এখন শত্রুরা দেশের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
রবিবার তেহরানের ইমাম খামেনি হোসাইনিয়াতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতে অষ্টম ইমাম হযরত ইমাম রেজা (আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, সামরিক হামলায় তিক্ত পরাজয় এবং ইরানি জনগণ, প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ় প্রতিরোধ ও ঐক্য থেকে শত্রুরা বুঝে গেছে—যুদ্ধ কিংবা জোরপূর্বক আনুগত্য চাপিয়ে দিয়ে জনগণ বা ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে বশ করা সম্ভব নয়।
এই কারণেই শত্রুরা এখন দেশে ফাটল ধরিয়ে তাদের লক্ষ্য হাসিল করতে চাইছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
খামেনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণ, সরকারি কর্মকর্তা, বুদ্ধিজীবী ও লেখক সবাইকে দেশের পবিত্র ও মহান ঐক্যের ইস্পাত সদৃশ প্রতিরোধ সংরক্ষণ ও শক্তিশালী করার দায়িত্ব নিতে হবে।
আয়াতুল্লাহ খামেনি সাম্প্রতিক যুদ্ধ চলাকালীন ইরানি জনগণের অটল অবস্থানকে বিশ্ব দরবারে এক মহৎ মর্যাদার উৎস বলে আখ্যা দেন। এরপর প্রশ্ন তোলেন, গত ৪৫ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের প্রতি অবিরাম শত্রুতার আসল কারণ কী?
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, মার্কিন প্রশাসন এতদিন সন্ত্রাসবাদ, মানবাধিকার, গণতন্ত্র কিংবা নারী অধিকার ইত্যাদি শ্লোগানের আড়ালে আসল কারণ লুকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান মার্কিন সরকার প্রকাশ্যেই বলেছে, আমরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) চাই ইরান আমাদের কথা শোনুক।
ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট—এক গৌরবময় ইতিহাসের ধারক গর্বিত জাতিকে এমন এক অনুসারীতে পরিণত করা, যে তাদের আদেশ মেনে চলবে।
তিনি এমন বক্তব্যকে ইরানি জাতির প্রতি অপমানজনক বলে নিন্দা জানান এবং বলেন, জনগণ কখনোই এ ধরনের প্রত্যাশা সহ্য করবে না, বরং দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ করবে।