স্বপ্ন-শখের সিনেমাকে বিদায় অনন্তের

দেশীয় চলচ্চিত্রে অনেকটা উড়ে এসেই জুড় বসেছিলেন এম এ জলিল অনন্ত ওরফে অনন্ত জলিল। আজ থেকে দেড় দশক আগে ২০১০ সালে নিজের প্রযোজনায় ‘খোঁজ দ্য সার্চ’ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু হয় তার। বিগ বাজেট, ধুন্ধুমার অ্যাকশন আর লোকেশনে ভিন্নতার কারণে শুরুতেই বেশ আলোচনার জন্ম দেন তিনি। গার্মেন্টস ব্যবসায়ী থেকে রাতারাতি তারকা বনে যান তিনি। তারপর একে একে প্রযোজনার পাশাপাশি অভিনয় করেন ‘হৃদয় ভাঙা ঢেউ’, ‘দ্য স্পিড’, ‘মোস্ট ওয়েলকাম’, ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’, ‘মোস্ট ওয়েলকাম ২’, ‘দিন দ্য ডে’, ‘কিল হিম’সহ মোট ১০টি সিনেমায়। এসব ছবিতে অনন্ত জলিলের অভিনয় দর্শকমনে তেমনভাবে দাগ না কাটলেও নানা কারণে আলোচনা এমনকি সমালোচনারও জন্ম দেন তিনি। আর তার সব ছবিতেই নায়িকা হিসেবে ছিলেন তার স্ত্রী আফিয়া নুসরাত বর্ষা।

১৫ বছরে ১০টির মতো সিনেমায় জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছেন অনন্ত-বর্ষা। কয়েক মাস আগে বর্ষা মিডিয়াকে জানিয়ে দেন তিনি আর সিনেমায় অভিনয় করবেন না। হাতে যে দুয়েকটি সিনেমার কাজ বাকি আছে, সেগুলো শেষ করে সিনেমায় অভিনয় থেকে দূরে সরে যাবেন। কারণ হিসেবে বর্ষা বলেন, ‘সন্তানরা বড় হচ্ছে। তারা মাকে সিনেমায় দেখলে কী ভাববে, সেটি ভেবেই সিনেমা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এ বিষয়টি নিয়ে সেই সময় সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।’

 কয়েক মাস পার না হতেই বর্ষার মতো নিজেও সিনে দুনিয়াকে বিদায় জানানোর আভাস দিলেন অনন্ত জলিল। বর্ষার মতো এই অভিনেতাও অভিনয় ছাড়ার কারণ হিসেবে তাদের সন্তানদের কথা উল্লেখ করলেন। যদিও অনেক দিন ধরেই সিনেমা নির্মাণে নেই অনন্ত জলিল। এই অভিনেতা-নির্মাতার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলো তেমন একটা সাফল্যের মুখ দেখেনি। মাঝখানে নিজের প্রযোজনার বাইরে গিয়ে অন্য প্রযোজকের সিনেমাতে অভিনয় করেও দর্শকমহলে নিজের পুরনো ছন্দ ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হন। এসব কারণে দর্শক ও চলচ্চিত্র মহলের অনেকেই ধারণা করছিলেন সিনেমা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন এই নায়ক।

এবার সেই ধারণাকেই স্পষ্ট করে তুললেন অনন্ত জলিল। জানালেন, হাতে যে কয়টা কাজ আছে শেষ করে হয়ত চলচ্চিত্র ছেড়ে দেবেন, বাচ্চারা ইসলামিক লাইনে লেখাপড়া করে। তার বাবা-মা সিনেমা করে এমনটা ভালো দেখায় না। অনন্ত জলিল আরও জানান, তার ছেলেদের তিনি পড়াতে চান মদিনায়।

এ অভিনেতা বলেন, ‘বর্ষার কথা হচ্ছে আমাদের হাতে যে দুই তিনটা মুভি আছে, সেগুলো শেষ করে তারপরে দেখা যাবে। আমার দুইটা ছেলে আছে জানেন। আমার বড় ছেলে এখন ৮ পারা কোরআন মুখস্থ করেছে, আলহামদুলিল্লাহ। ছোট ছেলেও কোরআন রিডিং খতম করেছে, দ্বিতীয়বার পড়ছে। ওদের একজনের সাড়ে ৭ বছর, আরেকজনের সাড়ে ১০ বছর। যখন বর্ষা প্রথম প্রেগন্যান্ট হয়, তখনই আমরা নিয়ত করি, আমাদের ছেলেকে আমরা মুফতি বানাব। একটা সময়ে মদিনাতে পড়াশোনা করাব।’

অনন্ত জলিল বলেন, ‘আমার দুই ছেলে মানারাতে পড়ে। যেহেতু ওখানে ইংলিশ মিডিয়ামের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় পড়াশোনা হয়, ওরা কিন্তু জোহরের নামাজের পর ছুটি দিয়ে দেয়। এই যে একটা ইসলামিক শিক্ষা। ওরা বাসায় আসার পর ওদের টিচার আসে। এরপর ওরা মাদ্রাসায় চলে যায়। ওরা আমাদের চেয়ে বেশি বিজি।’

বর্ষার সিনেমা ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে অনন্ত জলিল বলেন, যেহেতু ওরা ইসলামিক লাইন ও জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করে, ওর আম্মু সিনেমা করবে, এটা ওদের ভাল লাগবে না। ‘নেত্রী দ্য লিডার’ সিনেমার কাজ সত্তর ভাগ শেষ হয়ে গেছে বলে জানালেন এই অভিনেতা। ছবিটি শিগগিরই মুক্তির প্রস্তুতি চলছে।