জাতীয় ঐক্যমত কমিশন কর্তৃক গৃহীত জুলাই সনদ-২০২৫ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে আইনি উপায় খুঁজতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আইন বিশেষজ্ঞরা সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট আয়োজন অথবা বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ জারির প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে কমিশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. মো. আইয়ুব মিয়া। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞ প্যানেলে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন, বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া ও ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক। এছাড়া বৈঠকে সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান অংশ নেন।
সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে জুলাই সনদের আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে গণভোট বা বিশেষ সাংবিধানিক আদেশের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। গত ১০ আগস্ট সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী এক বৈঠকে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরামর্শ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে এখন এটি সম্ভব নয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দুটি কার্যকর পদ্ধতি রয়েছে। প্রথমটি হলো গণভোটের মাধ্যমে জনমত নেয়া, যা জনগণের সরাসরি ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং রাজনৈতিক চাপ তৈরি করবে। একই ব্যালটে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়, যদিও এর কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে।
দ্বিতীয় পদ্ধতি হিসেবে বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ জারির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে যুক্তি দেখানো হয় যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে এই আদেশ জারি করা যেতে পারে, যা আদালতেও টিকে থাকতে পারে। তবে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী একজনের মতে, এই দুটি পদ্ধতিই শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদ বা আদালতের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল।
কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার বৈঠক শেষে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা আইনজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। নানা ধরনের পরামর্শ এসেছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধের কারণে বিকল্প পথ খুঁজতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, গণভোটসহ বিভিন্ন বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, গণভোট একটি বিকল্প ছিল। এ ছাড়া একাধিক বিকল্প আমরা বিবেচনা করছি। তিনি আরও যোগ করেন যে, সরকার দ্রুত কোন কোন প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবগুলো চিহ্নিত করতে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওনকে ছয় মাসের জন্য বিশেষ পরামর্শক (অবৈতনিক) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ১০ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে বিচার বিভাগ সংস্কারসহ বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তার দায়িত্ব দেওয়া হয়।