সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মৌখালী এলাকায় সুন্দরবন সংলগ্ন মালঞ্চ নদীর চর দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ এ অ্যান্ড এন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস নামের রিসোর্ট সেন্টার ও ট্যুরিস্ট স্পট অবশেষে উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ও পরিবেশকর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
রবিবার উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বন বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও নীলডুমুর ট্যুরিস্ট পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। এ সময় নদীর জায়গা দখল করে নির্মিত স্থাপনাগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, পরিবেশ ও বন আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা এসব অবকাঠামো সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছিল।
অভিযানে অবৈধ রিসোর্টটির চারটি ফুট ট্রেল, একটি গোলচত্বর ও একটি অফিসঘর উচ্ছেদ করা হয়। এগুলো কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন ছাড়াই মালঞ্চ নদীর চর দখল করে নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্ট মালিক প্রশাসনের কাছে বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাস ধরে এসব স্থাপনা অবৈধভাবে গড়ে ওঠে। এর আগেও মালিককে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা মানেননি। ফলে বাধ্য হয়ে উপজেলা প্রশাসন এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সঞ্জয় রায়। একই সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম, বন বিভাগের মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়ির ফরেস্টার ফায়েজুর রহমান এবং নীলডুমুর ট্যুরিস্ট পুলিশের এসআই সুজিত সরকারসহ আরও অনেকে।
ভূমি কর্মকর্তা সঞ্জয় রায় বলেন, ‘স্থাপনা সরিয়ে নিতে পূর্বে নির্দেশ দেওয়া হলেও মালিক তা মানেননি। নদীর জায়গায় এভাবে স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। তাই আইন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।’
বনবিভাগের মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়ির ফরেস্টার ফায়েজুর রহমান জানান, খুলনার মাহাবুব আলম নামের এক বহিরাগত ব্যক্তি প্রায় আট মাস আগে মালঞ্চ নদীর চরে এই রিসোর্ট নির্মাণ শুরু করেন। এর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ মেরামতের জন্য ওই স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলেছিল। পরে তিনি প্রভাবশালী ট্যুরিস্ট ব্যবসায়ী পরিচয়ে বাঁধের ওপর রিসোর্ট নির্মাণ শুরু করেন।