সুগার বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় ডায়াবেটিস রোগীরা সব ধরনের ফল খেতে পারেন না। পুষ্টিগুণ থাকা সত্ত্বেও কিছু ফল রয়েছে, যার মধ্যে শর্করার মাত্রা খুব বেশি। গ্লাইসেমিক সূচকও বেশি থাকে কিছু কিছু ফলের। ডায়াবেটিসের রোগীরা সেগুলো নিয়মিত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। যেমন আম, পাকা কলা, সফেদা, আঙুরের মতো বেশ কিছু ফল রয়েছে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের বুঝেশুনে খাওয়া উচিত। তবে পরিমাণ বুঝে খেলে কোনো ক্ষতি নেই। তবে এই ফলগুলোর বদলে অন্য ফল খেতে পারেন।
আমের বদলে বেরি : আমের বদলে নিশ্চিন্তে খেতে পারেন বেরিজাতীয় ফল। ব্লুবেরি ও স্ট্রবেরি ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য উপকারী। কিন্তু এই ফলগুলো চট করে বাজারে পাওয়া যায় না। এর বদলে জাম ও আমলকি খেতে পারেন।
পাকা কলার বদলে পেয়ারা : দিনে একটা পাকা কলা খেলে সুগার বাড়ার ভয় নেই। তার ওপর কলা যদি ব্রেকফাস্টে খান, সেটাও নিরাপদ। কিন্তু আপনি যদি কলার বিকল্প কোনো ফল খোঁজেন, সে ক্ষেত্রে পেয়ারা খেতে পারেন। পেয়ারা ভিটামিন সি-তে পরিপূর্ণ এবং এতে শর্করার মাত্রা নগণ্য।
সফেদার বদলে আপেল : সারা বছর সফেদা পাওয়া যায় না। পেলেও এই ফল ডায়াবেটিসের রোগীদের এড়িয়ে চলাই ভালো। সফেদার গ্লাইসেমিক সূচক ৬৫ থেকে ৭০ এবং এতে ফাইবার কম। এর বদলে সারা বছর রোজ একটা করে আপেল খান। আপেল খেলে ডায়াবেটিসের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে আর ভাবতে হবে না। শরীরের একাধিক সমস্যা দূর করে দেবে এই ফল।
আঙুরের বদলে বেদানা : একমাত্র গরমকালেই মিষ্টি আঙুর পাওয়া যায়। সেই সময় দু-চারটে আঙুর খেলে কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু এই ফলে ফাইবার একদম নেই বললেই চলে। তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের আঙুর না খাওয়াই ভালো। এর চেয়ে সারা বছর বেদানা খান। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ বেদানা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
আনারসের বদলে পাকা পেঁপে : আনারসে শর্করার মাত্রা বেশি থাকায় এই ফলও ডায়াবেটিস রোগীদের এড়িয়ে চলা উচিত। ভারী খাবার খাওয়ার পরে মিষ্টি আনারস খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। তবে এই ফলে ফাইবার রয়েছে, তাই মাঝেমধ্যে অল্প আনারস খেলে ক্ষতি নেই। তবে নিশ্চিন্ত মনে ফল খেতে হলে পাকা পেঁপেকে বেছে নিন। সকালে খালি পেটে খান কিংবা স্ন্যাকস হিসেবে, পাকা পেঁপে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেই রাখবে। পাকা পেঁপে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি একাধিক রোগের ঝুঁকিও কমায়।