লেবাননের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। দেশের ভেতরে অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও আঞ্চলিক দ্বন্দ্বের প্রভাবে সাধারণ মানুষ যেমন বিপর্যস্ত, তেমনি বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপের অভিযোগও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আবারও লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানালেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম।
গতকাল সোমবার ধর্মীয় নেতা সাইয়্যেদ আব্বাস আলী আল-মুসাভির স্মরণসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো মূল্যে লেবাননের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট রাখতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ইমাম সাইয়্যেদ মুসা আল-সদরের অন্তর্ধানের বার্ষিকীর প্রসঙ্গ টেনে এনে উল্লেখ করেন, আল-সদর লেবাননে ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলনের ধারা পাল্টে দিয়েছিলেন এবং এ প্রভাব আজও বিরাজমান।
হিজবুল্লাহ মহাসচিব মনে করেন, লেবাননের সেনাবাহিনী ও হিজবুল্লাহর যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমেই অতীতে সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘তাকফিরি’ গোষ্ঠীগুলোর অগ্রযাত্রা রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। তার ভাষায়, এই অভিজ্ঞতাই হতে পারে ভবিষ্যতের জন্য একটি মডেল। তাই তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে জরুরি অধিবেশন আহ্বান করতে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিরোধ গোষ্ঠী সংজ্ঞা অনুসারে, আগ্রাসনের মোকাবিলা করে, প্রতিরোধ করে না।’ অর্থাৎ হিজবুল্লাহর দৃষ্টিতে প্রতিরোধ মানে আক্রমণ নয়, বরং বাহ্যিক চাপ ও আগ্রাসনের জবাব দেওয়া।
শেখ নাঈম কাসেম আরও দাবি করেন, চার দশক ধরে হিজবুল্লাহর লড়াই ও সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, ইসরায়েলের আগ্রাসন অপ্রতিরোধ্য নয়। বরং হিজবুল্লাহর অস্তিত্বই দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে সামরিক শক্তিকে প্রতিরোধ করে টিকে থাকা যায়।
তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে লেবাননের ওপর নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে। সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তারা প্রতিরোধবিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের কারণে মানবিক সহায়তা ব্যাহত হয়েছে, গ্যাস প্রকল্প ও পুনর্গঠন কাজ থমকে গেছে এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় দেশটি আরও জর্জরিত হয়েছে।
হিজবুল্লাহর এই বক্তব্য বিশ্লেষকদের কাছে নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনটি দাবি করে আসছে যে, লেবাননের জাতীয় সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করে বহিরাগত শক্তি। তবে এবারের বক্তব্যের তাৎপর্য এই যে, অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত লেবাননে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হতে পারে।