“পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই তিনি (কোহলি) একই তীব্রতা নিয়ে খেলেছেন। আমি ওটা শিখতে চেষ্টা করেছি। যদি ওভাল টেস্টের চতুর্থ দিনটা দেখেন, একসময় রুট আর ব্রুক মিলে ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে ছিল খেলা। ওই সময়েই তীব্রতার প্রয়োজন হয়। কাঁধ ঝুলিয়ে দেওয়া যাবে না, নিয়ন্ত্রণ হারানো যাবে না,” — এভাবেই নিজের অনুপ্রেরণার কথা তুলে ধরলেন মোহাম্মদ সিরাজ।
ভারতের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠা সিরাজের ক্রিকেট দর্শনটা গড়ে উঠেছে সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলির হাত ধরে। কোহলির মতোই তিনি মাঠে প্রতিপক্ষকে কখনো বন্ধু ভাবেন না, বরং শত্রুর মতো দেখেন। আর ম্যাচ শেষে আবার সবাই বন্ধু। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে আলাদা করেছে।
সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওভালে সিরিজের শেষে টেস্টে সেটি স্পষ্ট ছিল। একসময় রুট ও ব্রুকের জুটিতে ইংল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। কিন্তু সিরাজের তীব্রতা, আক্রমণাত্মক শরীরী ভাষা আর দর্শকদের উসকে দেওয়া—সবকিছুই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত নয় উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন তিনি, ভারতের সিরিজ সমতায় ফেরা নিশ্চিত করেন।
আসলে কোহলির কাছ থেকে পাওয়া “আক্রমণাত্মক ক্রিকেট”–এর পাঠই সিরাজকে এই উচ্চতায় নিয়ে এসেছে। শামি ও বুমরাহর অনুপস্থিতি বা সীমিত ব্যবহারের মাঝেও পুরো সিরিজে ভারতীয় পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি, নিয়েছেন সর্বোচ্চ ২৩ উইকেট। ইংল্যান্ড কোচ ম্যাককালাম থেকে শুরু করে জো রুট পর্যন্ত সবাই স্বীকার করেছেন—সিরাজ সত্যিই এক 'যোদ্ধা'।
সিরাজের নিজের ভাষায়, কোহলির মতো তিনি-ও শিখে নিয়েছেন—মাঠে তীব্রতা কমালে হার নিশ্চিত। আর সেটাই তাকে আজ ভারতের পেস আক্রমণের অগ্রভাগে এনে দাঁড় করিয়েছে।