বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ) এস এম লাবলুর রহমানের বিরুদ্ধে খোদ কর্মকর্তাদের অসেন্তাষ বাড়ছে। কর্মচারীরা বেবিচকের যে কয়জন কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবি করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই কর্মকর্তা। কর্মচারীদের দাবির মুখে অনেক কর্মকর্তাই প্রত্যাহার হলেও এখনও বহাল তবিয়তে তিনি। প্রায় এক বছরের কাছাকাছি সময় হলেও তাকে প্রত্যাহার না করা হয় এই ক্ষোভ আবারো দানা বেঁধে উঠছে।
এ ছাড়া বেবিচকের প্রকৌশলীদের একের পর এক হয়রানি ও চাকুরিচ্যুতির হুমকির প্রেক্ষিতে এই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনায় উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বেবিচকের দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তা কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, বেবিচকের উন্নয়ন কাজের বিল আটকে রেখে ঘুষ নেওয়া এই কর্মকর্তার প্রকাশ্য ঘটনা। আবার ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দিতে নিজেদের প্রকৌশলীদের নানাভাবে হয়রানিও করান। অতিসম্প্রতি একজন সহকারী প্রকৌশলীকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেন। এ নিয়ে বেবিচকজুড়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে বলা হয়, শরীফুল নামের তার এক পছন্দের ঠিকাদারকে একজন সহকারী প্রকৌশলীর নিকট পাঠান। বেবিচকের অর্থের আদেশ ছিল ঠিকাদারকে মূল্যায়ন প্রতিবেদন দিতে। কিন্তু এটি গোপনীয় বিষয় হওয়ায় ওই সহকারী প্রকৌশলী দিতে অস্বীকার করায় তাকে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না শর্তে ওই সহকারী প্রকৌশলীকে বলেন, মূল্যায়ন প্রতিবেদন গোপন বিষয়। এটি ঠিকাদারকে দেওয়া হয় না। তার কাজের ওপর ভিত্তি করে তিনি বিল পান। কেউ যদি কাজের মান খারাপ করেন তবে তার বিল মূল্যায়ন প্রতিবেদনের মাধ্যমে আটক দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই কাজ সঠিকভাবে করার পর তার বিল হয়।
তিনি আরও বলেন, মেম্বার অর্থের নাম ভাঙিয়ে ঠিকাদার শরীফুল ইসলাম তাকে মূল্যায়ন প্রতিবেদন বলেন। কিন্তু তিনি সেটি না দেওয়ায় পরবর্তীতে খোদ মেম্বার অর্থ তাকে হুমকি দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, একইভাবে প্রতিটি বিভাগের কর্মকর্তাদের নাজেহাল করেন। তার কথা না শুনলে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়। বিশেষ করে বেবিচকের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ শরিফুল ইসলামকে দিতে চাপ দেন।
এ বিষয়ে শরিফুল ইসালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা তিনি তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগের বিষয়টি সত্য না বলে দাবি করেন।
বেবিচকের কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, হাফিজুর রহমান সমন্বয় কর্মকর্তা হলেও তাকে তার ব্যক্তিগত ক্যাশিয়ার বানিয়েছেন। বিভিন্ন বিল ভাউচার তার কাছে দিতে হয়। এরপর ওই বিলের ওপর দরকষাকষি করে। মনমত অর্থ পেলে বিল ছাড় হয়। নইতো দিনের পর দিন তাকে ওই বিলের জন্য ঘুরতে হয়। অনেক সময় বাধ্য ঘুষের দাবিকৃত টাকা দিয়েই বিল পাশ করানো হয়। হাফিজুর রহমান দীর্ঘ ১০ বছরের অধিক সময় তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবেই সেখানে রয়েছেন।
আলফাজ উদ্দিন নামের এক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, মেম্বার অর্থের ঘুষ বেবিচকে অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। এখানে টাকা না দিলে কোন বিল পাশ হয় না। তিনি অভিযোগ করেন, হাফিজের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয় এটা সবাই জানে।
বেবিচকের কর্মকর্তারা বলেন, তার এই সকল অপকর্মের কারণে উপদেষ্টার নিকট লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। দ্রুত তার অপসারণ কার্যকর না হলে আবারো আন্দোলনে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে এ বিষয়ে জানতে সদস্য অর্থ এস এম লাবলুর রহমানকে একাধিকবার তার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও সাড়া দেননি।
তবে তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সঠিক নয়। আমার যতটুকু দায়িত্ব ততটুকু পালন করি। এর বাইরে আমি আর বেশি কিছু জানি না।