শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে জামিনে মুক্ত

জামিনে মুক্তি পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে (৭৬)। মঙ্গলবার দেশটির এক আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেন, বিক্রমাসিংহে বর্তমানে একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং সেখান থেকে ভিডিও কনফারেন্সের (জুম) মাধ্যমে আদালতে উপস্থিত হন।

তার দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) জানিয়েছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মামলার শুনানিকে ঘিরে রাজধানী কলম্বোর কেন্দ্রীয় আদালত চত্বরে শত শত সমর্থক এবং বিরোধী দলের রাজনীতিকরা জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ আদালত চত্বরে হলুদ ব্যারিকেড বসিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করে।

ইউএনপির উপ-মহাসচিব আকিলা বিরাজ কারিয়াওয়াসাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি আমাদের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার একটি প্রমাণ। আমরা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপে আমাদের কোনো আপত্তি নেই, তবে তা যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক না হয়।’

ইউএনপি দাবি করেছে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। যদিও বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা ডিসানায়েকের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এই মামলার মূল অভিযোগ, ২০২৩ সালে ব্রিটেনে একটি বিশেষ গ্র্যাজুয়েশন লাঞ্চে যোগদানের জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল ব্যবহারের বিষয়কে কেন্দ্র করে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল বিক্রমাসিংহের স্ত্রীকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মানসূচক প্রফেসরশিপ দেওয়া উপলক্ষে।

উল্লেখ্য, পেশায় আইনজীবী রনিল বিক্রমাসিংহে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড ছয়বার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০২২ সালে দেশটির ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সময় প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন।