অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ায় বাড়ছে অপরাধের সংখ্যা

বিচারহীনতার কারণেই শিশু নির্যাতন বাড়ছে। অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ায় বাড়ছে অপরাধের সংখ্যাও। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গত ছয় মাসের পর্যবেক্ষণে তা উঠে এসেছে।

খুন হয়েছে ১ হাজার ৯৩৩, ধর্ষণের শিকার হয়েছে ২ হাজার ৭৪৪ এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২ হাজার ১৫৯ জন শিশু।

এছাড়া, শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত প্রায় ১ লাখ ৫১ হাজার মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে যা ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও তার পরিবারের জন্য মারাত্মক দুর্ভোগ বয়ে আনছে। বাংলাদেশের বর্তমান শিশু নির্যাতন পরিস্থিতি তুলে ধরেন বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম এর চেয়ারপার্সন ড. হামিদুল হক।

আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম ও বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলতায়নে ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন: একটি সাম্প্রতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিট দ্যা প্রেসে ড. হামিদুল হক তা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের ভাইস চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের মহাসচিব খায়রুজ্জামান কামালের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক নাসের ইকবাল জাদু, বি এস এ এফের কোষাধ্যক্ষ ও বিইউকের নির্বাহী পরিচালক কাজী শামসুল আলম, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের নির্বাহী সদস্য ড. আফরোজা পারভীন ও পরিচালক খন্দকার রিয়াজ হোসেন বক্তব্য দেন।

ড. হামিদুল হক বলেন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় শিশুরা নানা প্রকারের যৌন নির্যাতন, যৌন হয়রানি, শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর বড় অংশের শিকার মেয়ে শিশু।

তিনি আরো বলেন, জানুয়ারি থেকে মে পযন্ত ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েছে, জুনে কমেছে। ৫ বছরের মামলার সংখ্যা ৩ হাজার। বর্তমানে তা দেড় লাখে দাঁড়িয়েছে। দেশের ১০টি জেলার মধ্যে রংপুরে শিশু নির্যাতন সবচেয়ে বেশি। এরপর নোয়াখালী, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার। রংপুরে শিশু নির্যাতন কেনো বেড়েছে, এটা গবেষণা করে দেখা দরকার।

মো. মনিরুল আলম বলেন, প্রতি দিন ১৫ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। পুলিশ হেডকোয়ার্টার জানার পরও কেনো অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না।

ড. আফরোজা পারভীন বাংলাদেশে একটি শিশু অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিশুদের অধিকার সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপত্তা ও সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র শিশু অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। এ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিশুদের জন্য কেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব, জবাবদিহিতা এবং সুসংহত নীতি গ্রহণ সম্ভব হবে। বাংলাদেশে শিশু অধিকার রক্ষা, কল্যাণ ও উন্নয়নের কার্যক্রম হবে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক।

সভায় বক্তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও শিশুর অধিকার ও সুরক্ষায় জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিশুর উপর সকল ধরনের সহিংসতা বন্ধে সরকারের প্রতি জোরালো দাবি তুলে ধরেন। সেই সাথে একটি শিশু বান্ধব সমাজ গঠনের প্রতি সকলকে একাত্ম হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান হয়।

বক্তারা বলেন,  জেলা শহরগুলোতে পরিবার, কমিউনিটি সদস্যদেরকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে। স্কুল ভিত্তিক সচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা। সেই সাথে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও শিশু আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করার প্রতি জোর দেওয়া। সবার আগে শিশুর অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে অনেক সময় সঠিক সংবাদ ও সময়মতো যথাযথ সহায়তাও পাওয়া যায় না। সে বিষয়েও সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। লক্ষ্য হবে একটাই; দেশের একটি শিশুও যেন কোন ধরনের শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার না হয়।

এছাড়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও শিশুর অধিকার ও সুরক্ষায় জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিশুর ওপর সকল ধরনের সহিংসতা বন্ধে সরকারের প্রতি জোরালো দাবি তুলে ধরা হয়। সেই সাথে একটি শিশু বাস্তব সমাজ গঠনের প্রতি সকলকে একাত্ম হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।