গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ফ্যাসিবাদকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর সেজন্য আগামী নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য।
শুক্রবার সকাল ১১টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে দলটির ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জনগণের মুক্তিসংগ্রাম ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দলের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকার বিদায় হয়েছে কিন্তু ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার এখনও বিদায় হয়নি। চব্বিশের অভ্যুত্থানে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হলে দরকার ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার নিরসন করা। যে সরকার ও শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারি প্রতিষ্ঠা হয় আমরা সেই ব্যবস্থা বদলের জন্য লড়াই করছি।
জোনায়েদ সাকি বলেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই যেখানে নাগরিক হিসেবে সকলে আত্মমর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে। সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। অধিকার ও মর্যাদার বাংলাদেশ, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ, জনগণের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমরা সংগ্রাম করে আসছি। অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্পন্ন করতে হবে।
জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, গত ৫৪ বছরে মানুষের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমরা দেখেছি কীভাবে আমাদের দেশে বিভাজন তৈরি করেছে, কীভাবে আমাদের দেশের মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, কীভাবে আমাদের দেশে ধর্ম, জাতি, লিঙ্গীয় পরিচয়ের দিক থেকে যারা ক্ষমতার মধ্যে প্রান্তিক হয়ে যান, যারা সংখ্যায় কম, তাদেরকে নিপীড়নের শিকার করা হয়েছে, একটা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে তাদের জীবনে- এগুলো মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা বলে না।
তিনি বলেন, আমাদের দল গণসংহতি আন্দোলন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াই করে যাচ্ছি। আমরা দল হিসেবে আমাদের সর্ব্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম সংগঠিত করেছি। আমাদের গত ২৩ বছর ধরে লড়াইয়ে আমাদের সহযোদ্ধারা শহীদ হয়েছেন, জেল খেটেছেন, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। আমরা জাতীয় সম্পদ রক্ষার লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবিচল থেকে অবিরাম লড়ে গেছি। সামনের দিনেও যেকোনো ফ্যাসিবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে, সেই ফ্যাসিবাদ যে নামে বা রূপেই আসুক না কেন।
আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূইয়া, জুলহাসনাইন বাবু, দীপক কুমার রায়, কেন্দ্রীয় সদস্য মিজানুর রহমান মোল্লা, পেশাজীবি সংহতির সংগঠক রুম্মন সিদ্দিকী, সাভার থানা সমন্বয়ক এফ এম নুরু, আশুলিয়া থানা সংগঠক রোকনুজ্জামান মনি, মিরপুর অঞ্চলের যুগ্ম আহ্বায়ক রতন তালুকদার, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহীম চৌধুরী, ছাত্র ফেডারেশন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক অনুপম রায় রুপক, ঢাকা মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তুহিন ফরাজীসহ ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন থানা ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ।