চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক আরোপ করেছে, যার ফলে ভারতের ওপর মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে মুদ্রাবাজারে। মার্কিন শুল্ক আরোপ কার্যকরের পর রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমেছে ভারতীয় মুদ্রার মান। শুক্রবার প্রথমবারের মতো প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৮৮-এর সীমা ছাড়িয়ে যায় রুপি। খবর রয়টার্স
বিনিয়োগকারীদের মতে, ভারতীয় পণ্যের ওপর কঠোর মার্কিন শুল্ক আরোপ দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, শুক্রবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপি ৮৮.২৯-এ নামে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছুঁয়ে যাওয়া আগের সর্বনিম্ন ৮৭.৯৫-এর রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার বিক্রির হস্তক্ষেপে রুপি আংশিকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুপুর ২টা নাগাদ ৮৮.১২-তে লেনদেন হয় বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপির দরপতন হয়েছে প্রায় ৩ শতাংশ, যা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই দিনে, রুপি চীনা ইউয়ানের বিপরীতেও রেকর্ড সর্বনিম্নে পৌঁছায়।
কোটাক সিকিউরিটিজের বৈদেশিক মুদ্রা গবেষণা প্রধান অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘রুপি যখন ৮৭.৬০ ছুঁয়েছিল, তখন হেজ না করা অনেক আমদানিকারকের চাহিদা তৈরি হয়। সবাই ভাবছিলেন রিজার্ভ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করবে, কিন্তু তা না করায় ৮৮ পার হওয়ার পর একের পর এক স্টপ লস ট্রিগার হতে থাকে।’
‘৮৯ হলো পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্তর যা পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত,’ বলে জানান তিনি।
অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, মার্কিন এই শুল্ক যদি এক বছরের জন্য স্থায়ী হয়, তবে এটি ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি থেকে ৬০ থেকে ৮০ বেসিস পয়েন্ট কেটে নিতে পারে। ইতিমধ্যেই মন্থর গতির অর্থনীতিতে এতে চাপ আরও বাড়বে।
ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৫ অর্থবছরের জন্য ৬.৫% প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, যা ৩১ মার্চ শেষ হবে।
বিশ্লেষকদের বরাতে রয়টার্স জানায়, ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের ২.২% আসে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি থেকে। তবে বস্ত্র, গয়না ইত্যাদি শ্রমনির্ভর খাতে মন্দা দেখা দিলে কর্মসংস্থানে আঘাত আসতে পারে এবং এর ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব আরও গভীর হবে।
এই শুল্কের কারণে বাণিজ্য ঘাটতিও বাড়তে পারে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ দুর্বল রয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার ও ঋণপত্র বাজার থেকে প্রায় ৯.৭ বিলিয়ন ডলার প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
ফ্র্যাঙ্কলিন টেম্পলটনের উদীয়মান বাজার ইকুইটি (ভারত) বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হরি শ্যামসুন্দর বলেন, ‘এই শুল্কজনিত রপ্তানিতে ধাক্কা ভারতের বাণিজ্য ঘাটতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।’