অধিকাংশ পিরানহা মাছই দেখতে দারুণ সুন্দর। কিন্তু এটি খুবই আক্রমণাত্মক স্বভাবের রাক্ষুসে মাছ। আমাদের দেশে লাল পেটওয়ালা পিরানহা (Red Bellied Piranha) এবং লাল পেটওয়ালা পাকু (Red Bellied Pacu) এ দুটি প্রজাতির পিরানহা কেউ কেউ চাষ করছেন। অনেকে শখের বশে বাহারি মাছ হিসেবে অ্যাকুয়ারিয়ামে লালন-পালন করছেন। আমাদের দেশে বিদেশি বাহারি মাছ হিসেবে অ্যাকুয়ারিয়ামে লালন-পালনের জন্য এবং অধিক উৎপাদনশীল মাছ হিসেবে চাষের জন্য চীন ও থাইল্যান্ড থেকে আনা হলেও আজ তা সেখান থেকে চলনবিলের মতো উন্মুক্ত জলাশয়ে প্রবেশ করেছে। কিন্তু এ প্রজাতির দক্ষিণ আমেরিকার আমাজনবাসী পিরানহা দলবদ্ধ আক্রমণে যে কাউকে ২ বা ৩ মিনিটে সাবাড় করে দিতে সক্ষম। তাই দেরিতে হলেও এর ক্ষতিকর বিষয়টি অনুধাবন করে মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুসারে পিরানহার সব প্রজাতির চাষ, প্রজনন, ক্রয়-বিক্রয় ও দখলে রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই মাছািট আকারে ছোট হলে কী হবে, তাদের করাতের মতো দাঁত দেখলে এমনিই গা ছমছম করে। মাংসাশী এই মাছের পেটে যাওয়ার চেয়ে আগুনে পুড়ে মৃত্যুকে অনেকে মেনে নেবে। এ মাছের খপ্পরে পড়ার কথা যেখানে স্বপ্নেও কল্পনা করা কষ্টকর, সেখানে কেউ ইচ্ছে করে পিরানহার পেটে গিয়েছেন, তা বিশ্বাস করাও কঠিন। এ রকমই একটি ঘটনা ঘটেছিল ২০১১ সালে। বলিভিয়ার রোজারিও শহরে নাম না জানা কোনো এক কিশোর পিরানহা আছে এমন এক নদীতে লাফিয়ে আত্মাহুতি দেয়। আধা-খাওয়া লাশ উদ্ধারের পর পরীক্ষা করে দেখা যায়, নদীতে লাফানোর আগে সে ব্যাপক পরিমাণে মদ পান করেছিল। তাই ধরে নেওয়া হয়, এটি ছিল, একটি আত্মহত্যা। অথচ সে যদি জানত, এখানে পিরানহা রয়েছে তাহলে প্রকৃত ঘটনা যে কী হতো তা বলা মুশকিল।