এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন শুধু সরকারের অর্জন বললে ভুল হবে, এটি বেসরকারি খাত ও জনগণের জাতীয় অর্জন। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পেছানোর আবেদন করলেও আমাদের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখতে হবে। বিনিয়োগ চাঙা করতে হলে একটি ভালো নির্বাচন দরকার। বিনিয়োগকারীরা একটি স্থিতিশীল সরকারের নিশ্চয়তা চায়। তাই সরকার ঘোষিত কাক্সিক্ষত সময়ে একটি ভালো নির্বাচন হলে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
গতকাল শনিবার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা শীর্ষক ছায়া সংসদে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান এসব কথা বলেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই সময়ে এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানো-না পেছানো নিয়ে উভয় সংকটে রয়েছে বাংলাদেশ। এলডিসি উত্তরণ থেকে ফিরে আসার প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশকে নিয়ে হাসাহাসি হতে পারে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আফগানিস্তানের মতো অযোগ্য দেশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বাংলাদেশ।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ আরও বলেন, তবে আমাদের ব্যবসায়ীরা এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখনো প্রস্তুত নন। গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী সময় শুল্ক সুবিধা থাকবে না বিধায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের সঙ্গে সঙ্গে পোশাক, শিল্প খাত শুল্কমুক্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া ছাড়াও নানা ধরনের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। বিদেশি প্রতিযোগীদের সঙ্গে ব্যাপক চ্যালেঞ্জে পড়বে। ওষুধ শিল্প পেটেন্ট আইনের অধীনে থাকবে বিধায় ওষুধের দাম অনেক বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষের কষ্ট হবে। অন্যদিকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর বাংলাদেশকে কমার্শিয়াল রেটে ঋণ নিতে হবে, যা পরিশোধ করা ও ঋণের শর্তপূরণ করা বেশ কঠিন হবে। তবে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। একই সঙ্গে নতুন সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের মাধ্যমে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে পারবে। নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের সুযোগ বাড়বে, অধিক কর্মসংস্থান তৈরি হবে। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয়ও বাড়বে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা রয়েছে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রাইম ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট আবুল বশির খান, অধ্যাপক আল-আমিন ও সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।