হারিয়ে যাওয়া সন্তান ফিরল ২৮ বছর পর

অভাব অনটনের সংসারে প্রতিবেশীর সঙ্গে কাজে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া কুড়িগ্রামের ৯ বছর বয়সী শিশু সাইফুল দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফিরল বাবা-মায়ের বুকে। ছেলেকে কাছে পেয়ে দারুণ আনন্দিত পরিবারের লোকজন। এদিকে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে একনজর দেখার জন্য শতশত মানুষের ভিড় জমে তাদের বাড়িতে। গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে নিজ বাড়ি কুড়িগ্রামে নিয়ে আসেন তার ভাই। সাইফুল ইসলাম কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নেফরা গ্রামের আব্দুল লতিফ-আমেনা দম্পতির সন্তান। ৯ ভাই বোনের মধ্যে সাইফুল চতুর্থ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাইফুল ইসলামকে পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক নারীর সঙ্গে ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রামে অন্যের বাসায় কাজের উদ্দেশ্যে পাঠায় তার পরিবার। ট্রেনে যাওয়ার পথে স্টেশনে ট্রেন দাঁড়ালে সাইফুল ট্রেন থেকে নেমে পড়ে। সময় মতো ট্রেনে উঠতে না পারলে ট্রেনটি ছেড়ে চলে যায়। এরপর থেকে নিখোঁজ হয় সাইফুল। চট্টগ্রামের সিতাকু-া উপজেলার ভাটিয়ারি রেল স্টেশন একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় ও কাজ জোটে সাইফুলের। সেখানেই কেটে যায় ২৮টি বছর। পরে গত সপ্তাহে নেফরা গ্রামের এক বাসিন্দার সঙ্গে হঠাৎ কথায় সাইফুল জেলা-উপজেলার নাম বলতে না পারলেও বাবা-মা এবং গ্রামের নাম বলতে পারে। এভাবেই পরিবারের খোঁজ মেলে সাইফুলের। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরে সাইফুলের বড় ভাই মাহফুজ রহমান গত বৃহস্পতিবার গিয়ে ভাটিয়ারি রেল স্টেশনে চায়ের দোকান থেকে সাইফুলকে বাড়ি নিয়ে আসেন।

সাইফুলের বড় ভাই মাহফুজার রহমান বলেন, গত সপ্তাহে সাইফুলের তথ্য পাই। এরপর সেই ঠিকানায় গিয়ে ভাইকে চিনতে পাই। এ সময় ভাটিয়ারি রেল স্টেশনে চায়ের দোকানের মালিক মোস্তাকিন এর সঙ্গে যোগাযোগ করে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভাইকে বাড়ি নিয়ে আসি। এতদিন পরে ভাইকে ফেরত পাওয়ার অনুভূতির ভাষা প্রকাশ করার মতো নয়।

বাবা আব্দুল লতিফ বলেন, ছেলেকে দেখে আমি চিনতে পেরেছি। ছেলের জন্য নামাজ পড়েছি। আল্লাহর কাছে অনেক কেঁদেছি। এখন ছেলেকে পেয়ে খুশি হয়েছি।মা আমেনা বেগম বলেন, সংসারে অভাব ছিল। ঠিকমতো খাবার জুটতো না। তখন ছেলেকে কাজের জন্য পাঠাই। কাজে গিয়ে ছেলে আমার হারিয়ে যায়। ছেলের জন্য অনেক কেঁদেছি। আজ সেই সন্তানকে ফিরে পেলাম।