হরিরামপুরে ‘সমন্বয়কারীর’ দাপট, চাঁদাবাজি ও হুমকিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার আন্ধারমানিক গ্রামের মো. হাকিম উদ্দীনের পুত্র মো. সোহেল রানা (৩৮) নিজেকে একটি সংগঠনের ‘সমন্বয়কারী’ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি, হুমকি এবং সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

৩১ আগস্ট (রবিবার) একাধিক ভুক্তভোগী স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সোহেল রানার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই জানিয়েছেন, তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, “সোহেল রানার প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। প্রতিবাদ করলেই হুমকি আসে।”

আন্ধারমানিক গ্রামের ভুক্তভোগী মো. হুমায়ূন কবীরের স্ত্রী সাফিয়া অভিযোগ করে বলেন, “সমন্বয়কারীর পরিচয়ে সোহেল রানা একাধিকবার আমাদের পরিবারকে হুমকি দিয়েছে। মিথ্যা মামলায় জড়াতে চেয়েছে। এমনকি আমার মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব এলেও তিনি বাধা দিয়েছেন। আমরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এজন্য আমি হরিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।”

একই গ্রামের আরেক ভুক্তভোগী খায়রুন বেগম বলেন, “জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে সোহেল রানা আমার ছেলেকে মারধর করেছে এবং আমার জায়গা জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। থানায় অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাইনি।”

বয়ড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইমদাদুল হক জানান, “সোহেল রানা কথিত ‘সমন্বয়কারী’ পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখায়। মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করে। তার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

এ প্রসঙ্গে মানিকগঞ্জ জেলা এনসিপির ১ নম্বর যুগ্ম সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট এইচ এম মাহফুজ বলেন, “আমরা হরিরামপুরের মো. সোহেল রানা নামের কাউকে চিনি না, এমনকি তাকে কোনো কমিটিতে অন্তর্ভুক্তও করা হয়নি। কেউ যদি এনসিপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি বা অপকর্ম করে, তার দায় সংগঠন নেবে না।”

এ বিষয়ে জানতে সোহেল রানার সঙ্গে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।

হরিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”