দেহে ফ্রি রেডিক্যাল এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ভারসাম্য বজায় থাকলে, বলা হয় সেই ব্যক্তির ‘অক্সিডেটিভ হেল্থ’ ভালো। অন্যথায় তার দেহকোষের ক্ষতি হতে পারে। ভারসাম্য নষ্ট হলে, তখন তাকে বলা হয় ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা, অনিয়মিত ডায়েট, ধূমপান বা মদ্যপানের ফলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি পেতে পারে। সবজি, সাইট্রাস জাতীয় ফল এবং বাদাম জাতীয় খাবার শরীর থেকে এই ধরনের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
কাঠবাদাম খেলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমতে পারে এবং ব্যক্তির আয়ুষ্কালও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে তার জন্য দিনে ৬০ গ্রাম কাঠবাদাম খেতে হবে। ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্ট’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রের নেপথ্যে রয়েছেন তেহরান ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সায়েন্স-এর এক দল গবেষক। এই পরীক্ষার জন্য গবেষকরা আটটি ভিন্ন পর্যবেক্ষণ থেকে ৪২৪ জন অংশগ্রহণকারীর তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
অংশগ্রহণকারীরা ৪ থেকে ২৪ সপ্তাহ পর্যন্ত দিনে ৫ গ্রাম থেকে ১৬৪ গ্রাম পর্যন্ত কাঠবাদাম খেয়েছিলেন। দেখা গিয়েছে যারা দিনে ৬০ গ্রামের বেশি কাঠবাদাম খেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে দেহে কোষের ক্ষতি করে, এমন বেশ কিছু রাসায়নিকের পরিমাণ অনেকাংশে কমেছে। তাদের ক্ষেত্রে দেহে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার তাদের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও কমেছে, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি করে।
৬০ গ্রাম মানে প্রায় ২২টি কাঠবাদাম। গবেষকরা জানিয়েছেন, যাদের কোলেস্টেরল বা হার্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কাঠবাদাম অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। আবার সরাসরি বেশি পরিমাণে কাঠবাদাম না খেয়ে স্যালাড বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গেও তা খাওয়া যেতে পারে।