দারিদ্রতার চাপে কিডনি বিক্রির ঘোষণা যুবকের  

ঋণের বোঝা ও দারিদ্রতার চাপে ফেসবুকে নিজের কিডনি বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন নোয়াখালীর হাতিয়ার যুবক মহসিন। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি এলাকার ও আশপাশের লোকজন তার দোকানে ভিড় করছে। 

জানা গেছে, যুবক মহসিন হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ আবুল কাশেমের ছেলে। লেখাপড়া শেষ করে চাকরি নিয়েছিলেন একটি ওষুধ কোম্পানিতে। বিয়ের পর বাবা-মাকে ছেড়ে আলাদা থাকতে বাধ্য হন। বাসা ভাড়া, সংসারের খরচ ও স্ত্রীর বিলাসিতার খরচ মেটাতে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন। মাস শেষে প্রাপ্ত বেতনে পরিবারের খরচ মিটানো ও ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এক এনজিওর কিস্তি শোধ করতে আরেক এনজিও থেকে ঋণ নিতে  হয়। ঋণে ঋণে জর্জরিত অভাব অনটনের সংসারে একদিন স্ত্রীও তাকে ডিভোর্স দিয়ে  কাবিনের টাকা নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যায়। কাবিনের টাকাও দিতে ও তাকে  ঋন করতে হয়। চরম হতাশায় পড়ে মহসিন।

এক পর্যায়ে চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে আত্মীয়-স্বজনদের আর্থিক সহযোগিতায় ফার্মেসি ব্যবসা শুরু করলেও ঋণগ্রস্থ থেকে মুক্তি পাননি মহসিন। এনজিওর কিস্তি ও আত্মীয়দের ধারের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিডনি বিক্রির ঘোষণা দেন তিনি।

মহসিন বলেন, আমি পালালেও আমার  ঋণ শোধ করতে হবে। মরে গেলেও পরিবারকে এ টাকা শোধ করতে  হবে। তাদের  সে সামর্থ্য নেই। তাই নিরুপায় হয়ে কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

প্রতিবেশী ফয়েজ উদ্দিন জানান, মহসিন একজন ভালো মনের মানুষ। বিয়ের পর থেকেই তার জীবন এলোমেলো হয়ে যায়। দোকানের সামনে প্রতিদিন এনজিওর লোকজন টাকার জন্য বসে থাকে। এ অবস্থায় তিনি চরম হতাশায় পড়ে কিডনি বিক্রির ঘোষণা দেন।

এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ, এনজিও ঋণে কাউকে স্বাবলম্বী করে দেওয়াও তাদের একটা দায়িত্ব। এক্ষেত্রে এনজিও কর্মকর্তারা ঋণ পুনঃনির্ধারণ করতে পারেন। তা না করে তারা মানুষকে দেউলিয়া বানিয়ে দিল।