চবি শিক্ষার্থী-স্থানীয় সংঘর্ষ

৯৮জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত এক হাজার জনকে আসামি করে মামলা

ভাড়া বাসার দারোয়ান কর্তৃক এক ছাত্রীকে মারধরের জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় অবশেষে হাটহাজারী থানায় একটি মামলা ও জিডি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মামলায় ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে এক হাজারজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায়  মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের  রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। এছাড়া চবির নিরাপত্তা দপ্তরের দেশীয় অস্ত্র লুটের ঘটনায় একটি জিডি করা হয়েছে। তবে ভয়াবহ এ ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। 

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু কাউসার মো.  হোসেন বলেন, ‘চবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’ 

চবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম জানান, স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলা আর একটি জিডি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করবো তারা যেন দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে তিন শতাধিক, চট্টগ্রাম  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৪ জন, নগরীর বিভিন্ন  বেসরকারি হাসপাতালে ৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে গত সোমবার বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে দু’জন লাইফ সাপোর্টে এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন ভর্তি আছেন। এ ছাড়া এক শিক্ষার্থীর রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার এনআইসিবিডি’তে (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাসকুলার) পাঠানো হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর হোসেন।

এদিকে সংঘর্ষের জেরে গ্রেপ্তার আতঙ্কে চবি সংলগ্ন জোবরা গ্রাম এখন পুরুষশূন্য হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অনেকে  ঘরবাড়ি  ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। গ্রামের রাস্তাঘাটে শুধু নারীর দেখা মিলছে। তবে তারা আছেন আতঙ্কে। স্থানীয় নারীরা জানান, রাতে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রতিরোধ করার মতো কেউ নেই। ফলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে মঙ্গলবার (২  সেপ্টেম্বর) ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল মুমিন। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একাডেমিক ও সামাজিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীরা যেন মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করছে। 

প্রসঙ্গত, গত ৩০ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার ভাড়া বাসায় এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্থার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরদিন ৩১ আগস্ট এ সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। এতে আহত হন  প্রো-ভিসি, প্রক্টরসহ কয়েক’শ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সংঘাতের মধ্যে গত রবিবার দুপুর ২টা  থেকে ক্যাম্পাস ও আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। সেটি এখনও বহাল আছে।