ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করে মব

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে কর্মকর্তাদের মারধর করল দখলদার

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা ময়মসিংহ মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নামে গাজীপুর জেলা সড়ক ও জনপদের (সওজ) লোকজন। পরে দুপরে হামলার শিকার হয় কর্মকর্তারা। একদল দখলদার একত্রিত হয়ে হামলা চালায়।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে পেরৈশহরের ৬ নম্বর ওর্য়াডের ১নং সিএন্ডবি এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়। উচ্ছেদ অভিযান চলে দুপুর পর্যন্ত। দুপুরের পর হামলা চালানো হয় উচ্ছেদে আসা কর্মকর্তাদের ওপর। এ সময় দুই কর্মকর্তাকে বেধম মারধর করা হয়। এক কর্মকর্তাকে মারতে মারতে বিবস্ত্র করে ফেলে একদল দখলকারী।

এ সময় আইনশৃঙ্খরাবাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে থাকলেও হামলা প্রতিরোধে এগিয়ে আসেনি। উত্তেজিত আর ক্ষুব্দ দখলবাজদের নিয়ন্ত্রণ করতে সাহস পায়নি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদ্যসরা। সওজের কর্মকর্তা ঘুষ নিয়েছেন এমন অভিযোগ তুলে আচমকা এক দল মানুষ মব সৃষ্টি করে। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই বেধড়ক মারধর শিকার হয় সড়ক ও জনপদের দুই কর্মকর্তা। পরে দৌঁড়ে প্রাণে বাঁচেন তারা।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ১ নম্বর সিএন্ডবি বাজার এলাকার পূর্ব পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

তব ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সওজ কর্মকর্তারা। তারা বলেন সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই সংঘবদ্ধ এ হামলা চালানো হয়। এতে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই উচ্ছেদ অভিযান চলে মহাসড়কের পূর্ব পাশে। দুপুর দেড়টায় ১নং সিএন্ডবি এলাকায় একদল অবৈধ দখলদার একত্র হয়ে মব সৃষ্টি করেন। কর্মকর্তা ঘুষ নিয়েছেন এমন অভিযোগ তুলে এ হামলার চালানো হয়। এ সময় দুই কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়। একজন সার্ভেয়ারকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এক পর্যায় ওই কর্মকর্তা মারধরে শিকার হয়ে বিবস্ত্র হয়ে পড়েন। তারপরও একদল মব মারধর করছিল ওই কর্মকর্তাকে। এ সময় অন্য কর্মকর্তা হালকা মারধরে শিকার হয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া অভিযান। পরে মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা বেশকিছু অবৈধ স্থাপনা ভাঙা হয়। ওই এলাকার পলক সিএনজি পাম্পের পাশ থেকে শুরু করে উত্তর দিকে মসজিদের পাশে পর্যন্ত বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভাঙা হয়েছে কিছু অবৈধ বহুতল ভবনের অবৈধ অংশবিশেষ।

তিনি বলেন দুপুরের পর আচমকা একদল লোক একত্র হয়ে সওজ এর কর্মকর্তা (সার্ভেয়ার) রবিউল ইসলামকে মারধর শুরু করেন। তার বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ তুলে মব জাস্টিস শুরু করে। এ সময় বেধম মারধরে করে বিবস্ত্র করা হয় ওই কর্মকর্তাকে। এ সময় পুলিশ ও আনসার বাহিনীর বিপুল সদস্য ঘটনাস্থলে থাকলেও মব নিয়ন্ত্রণে সাহস করেনি। নিরুপায় হয়ে তারা মারধর দেখে চুপ থাকেন। এ সময় দুজনকে মারধর করা হলেও বেশি মারধরে শিকার হন সার্ভেয়ার রবিউল ইসলাম। তার অবস্থা গুরুতর। অপর কর্মকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সওজের অসাধু কয়েক কর্মকর্তা অবৈধ কয়েকটি স্থাপনা না ভাঙ্গার শর্তে তাদের কাছ থেটে টাকা নিয়েছিলেন। ফলে ওই স্থাাপনাগুলো না ভেঙ্গে অন্যান্যগুলো ভাঙ্গা হচ্ছিল। এতে একটি পক্ষ ক্ষেপে যায়। তারা এক পর্যায়ে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ও হামলা চালায়।

গাজীপুর সড়ক ও জনপদের (সওজ) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশফাকুল হক চৌধুরী ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, তার চোখে সবাই সমান। অবৈধ সব স্থাপনা ভাঙা হচ্ছিল। এখানে টাকা (ঘুষ) নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটা ভুল অভিযোগ।

তিনি বলেন, সরকারি কাজ চলছে। এখানে হামলা করবে কেন। তারা আমার সঙ্গে কথা বলতে পারত। আমরা এই বিষয়টি দেখছি। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত চলবেই।