কাঠমান্ডুগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুপুর দেড়টার ফ্লাইট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সন্ধ্যা সাতটায়। এতে চরম বিপাকে পড়েছে জাতীয় ফুটবল দল। বিমানের পক্ষ থেকে বিশেষ সময়ে বিশেষ যাত্রীদের জন্য বিশেষ কোন ব্যবস্থা না থাকায় ভুগতে হচ্ছে পুরো দলকে। নেপালে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৬ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুটি ফিফা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে যাওয়ার কথা হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যদের। নির্ধারিত সময়ের আগেই ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সেরে গোটা দলসহ কাঠমান্ডুগামী যাত্রীরা ছিলেন বিমানে চড়ার অপেক্ষায়।
তবে নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টাখানেক আগে জানা যায়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সময় মতো ছাড়বে না ফ্লাইট। এর কিছু পরেই বড় স্ক্রিনে নতুন শিডিউল প্রকাশ করা হয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিলম্ব। অথচ দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া ফুটবলারদের জন্য বিশেষ কোন ব্যবস্থাই নিতে পারেনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডিউটিরত বিমানের কর্তারা। বাফুফে অবশ্য বসে থাকেনি। খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে তারা দ্রুত যোগাযোগ করে জাতীয় দলের স্পন্সর ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সঙ্গে। ব্যাংকটি দ্রুত বিমানবন্দরে অবস্থিত তাদের লাউঞ্জে জাতীয় দলকে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে।
বিমান কর্তৃপক্ষ কাঠমান্ডুগামী সাধারণ যাত্রীর সঙ্গে এই খাবারের দোকানে জাতীয় দলের মধ্যাহ্ণভোজের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিল। তবে বাফুফে রাজি হয়নি। তাদের প্রাথমিক দাবি ছিল বিমানবন্দরের কাছের কোন পাঁচ তারকা হোটেলে ফুটবলারদের আপ্যায়ন ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করার। বিমান অবশ্য তাতে অপারগতা প্রকাশ করে। তাই বাধ্য হয়ে বাফুফে দারস্থ হয় ইউসিবির। ফুটবলাররা যখন সেখানে বিশ্রাম নিচ্ছেন তখন ইউসিবি লাউঞ্জে উপস্থিত হন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার, এয়ারপোর্ট সার্ভিস মো. মনিরুল ইসলাম। দলীয় ম্যানেজার আমের খানকে এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে নিজেদের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন।
ত্রুটিযুক্ত এয়ারক্রাফটি ছাড়া এ মুহূর্তে ঢাকা বিমানবন্দরে বিমানের আর কোন এয়ারক্রাফট নেই বলে জানান তিনি। তবে তারা জানান নিকটতম যে এয়ারক্রাফটি ঢাকার রানওয়ে ছুঁবে সেটাকেই কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে। বিমান বন্দরে বিশেষ যাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা না থাকায়ও দুঃখ প্রকাশ করেন মনিরুল ইসলাম এবং বিষয়টি শীর্ষ পর্যায়ে অবহিত করার কথা বলেন।
বিমানের এই কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'আসলে আমাদের ফ্লাইটটার শিডিউল যে এয়ারক্রাফটের সঙ্গে করা হয়েছিল সেটার কারিগরি ত্রুটির কারণে ফ্লাইটটি ডিলে করতে হয়েছে। এখন আমরা ফার্স্ট এভেইলেভেল এয়ারক্রাফটটা সিঙ্গাপুর থেকে আসবে, আসার পর সেটি সন্ধ্যা সাতটায় কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।'
মনিরুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের একটা লাউঞ্জ আছে, যার নাম মসলিন লাউঞ্জ। সেটি বিজনেস ক্লাস যাত্রীদের আপ্যায়ন করার জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে সেখানে বসার স্থানের ঘাটতি আছে। ১২ জন বিজনেস ক্লাস যাত্রী বসতে পারেন। এ কারণেই পুরো জাতীয় দলকে সেখানে সংকুলান করতে পারিনি।' এ থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মনিরুল বলেন, 'যেহেতু আপনারা একটা অবজারভেশন দিয়েছেন, আমরা আমাদের টপ ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলে আরও ভালো ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো ভবিষ্যতে।'
বুধবার কেবল কাঠমান্ডুগামী বিমানের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি। আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটে বিমানের শিডিউলের বিপর্যয় ঘটেছে বলে জানা গেছে। থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটও ঢাকা থেকে নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যায়নি। এমনিতেই বিমানের সেবা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন। এবার দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া জাতীয় ফুটবল দলকে পড়তে হলো ভোগান্তিতে।
জাতীয় দলের ম্যানেজার আমের খান এ প্রসঙ্গে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, 'বিমানের শিডিউল বিপর্যয়ে বিষয়টি জানার পর আমরা বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলাম। বিমান দলের জন্য কি ব্যবস্থা করে জানার অপেক্ষায় ছিলাম। তবে জানতে পারলাম এত সংখ্যক বিশেষ যাত্রীদের জন্য বিমানের কোন বিশেষ ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে বিমানবন্দরের বড় বড় লাউঞ্জগুলোর সঙ্গে বিমানের কোন চুক্তিই নাকি নেই। আমাদের চাওয়া ছিল যাতে খেলোয়াড়রা একটু বিশ্রামের সুযোগ পায়। তবে বিমানের সুযোগ সুবিধা অপ্রতুল বলে সে ব্যবস্থা তারা করতে পারেনি। তাই আমরা নিজেরাই দ্রুত ইউসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং বাফুফের সভাপতিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় দলের বিশ্রামের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। পুরো লাউঞ্জটাই ব্যবহারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে আমাদের জন্য।'
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র এয়ারলাইন্স ঢাকা বিমানবন্দরেই নিজেদের যাত্রীদের জন্য সেরা আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে পারছে না। এটা জাতির জন্য বড় লজ্জার। এরপরও কী ঘুম ভাঙবে না বিমান কর্তৃপক্ষের?