দেশের মাটিতে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার আগে বন্ধু নিকোলাস ভাজকেজ অভিনীত 'রকি' নাটক দেখতে গেলেন লিওনেল মেসি।
জাতীয় দলের হয়ে বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচ খেলার জন্য সোমবার দেশে পৌঁছানো মেসি, ফাঁকা সময় কাজে লাগিয়ে বুয়েন্স আয়ার্সের লোলা মেমব্রিভেস থিয়েটারে যান মেসি। প্রবেশের সময় দর্শকদের ভিড় সামলাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়। হাসিমুখে দর্শকদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান মেসি। ভেতরে প্রবেশের সময় দর্শকরা তার নাম ধরে চিৎকার করতে থাকেন এবং ছবি তুলতে থাকেন।
মেসির সঙ্গে ছিলেন মা সেলিয়া, বাবা হোর্হে, দুই ভাই মাতিয়াস ও রদ্রিগো এবং ভাতিজারা। নাটক চলাকালে তার উপস্থিতি গোপন রাখা হয়, শেষদিকে দর্শক ও শিল্পীরা যখন তাকে আবিষ্কার করেন তখন চমকে ওঠেন সবাই।
নাটক শেষ হলে ভাজকেজ মেসিকে মঞ্চে ডাকেন। ধন্যবাদ জানানোর পর মেসির হাতে মাইক্রোফোন তুলে দেন তিনি। দর্শকদের উল্লাসের মধ্যে মেসি বলেন, “শুভ সন্ধ্যা। অসাধারণ ছিল, সবাই দুর্দান্ত। এটা আমার জন্য খুব বিশেষ একটা রাত। আমার পরিবার সবসময় রোসারিওতে থাকে, আজ সবাই বুয়েনস আয়ার্সে এসেছে। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আসব, ভাগ্য ভালো এসেও পড়লাম। তোমরা আমাদের দারুণ উপহার দিয়েছ, আমরা ভীষণ উপভোগ করেছি। তোমাদের সঙ্গে এই রাতটা ভাগাভাগি করতে পেরে আনন্দিত।”
এরপর মেসি ভাজকেজের ড্রেসিংরুমে যান, সেখানে কয়েক মিনিট আলাপের পর অভিনেতার সঙ্গে বের হয়ে আসেন। থিয়েটারের বাইরে প্রবেশের সময়ের চেয়েও বেশি মানুষ তাকে দেখতে অপেক্ষা করছিলেন। সবার উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদন জানাতে জানাতে গাড়ির দিকে যান মেসি। গাড়িতে ওঠার আগে বন্ধুকে জড়িয়ে ধরেন তিনি।
এর আগে ২০১৬ সালে বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচের সময়ও ভাজকেজের আরেকটি নাটক এল অত্রো লাদো দে লা কামা (দ্য আদার সাইড অব দ্য বেড) দেখতে গিয়েছিলেন মেসি। সে সময় ভাজকেজ ও পুরো নাটকের দল মেসির সঙ্গে ছবি তুলেছিলেন।
মেসি ও ভাজকেজের বন্ধুত্বের শুরু ২০১২ সালে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল প্রীতি ম্যাচ থেকে, যে ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিকে দল জেতে ৪-৩ গোলে। ভাজকেজ পরে জানিয়েছিলেন, “আমি জানতামই না নিউইয়র্ক কোথায়। আমি তখন নিউ জার্সিতে ছিলাম, ওরা বলল এটা মাত্র ১০ মিনিট দূরে। আমি একেবারেই অজ্ঞ ছিলাম। ওরা আমাকে ম্যাচের টিকিট দিয়েছিল, আর কোম্পানি জানত যে আমি ১৭ বছর বয়স থেকে মেসিকে ভালোবাসি। তাই যখন পৌঁছালাম, ওরা আমাকে বলল ‘ডোয়ার্ফ’ (মেসির ডাকনাম) জানে তুমি এখানে আছো, আর যদি চাও তাহলে গিয়ে তাকে হ্যালো বলতে পারো। হঠাৎ ইচ্ছা হলেও আমি বলেছিলাম, জানি না হ্যালো বলা উচিত কি না, কারণ আমরা তো ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলছিলাম।”
পরে আদ্রিয়ান সুয়ারের মাধ্যমে মেসি তাকে ডিনারে আমন্ত্রণ জানান। সেখান থেকে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। এরপর নাটকের মঞ্চে, খেলার মাঠে বা ব্যক্তিগত আড্ডায় তাদের একাধিকবার দেখা হয়েছে। এমনকি মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোর সঙ্গে মিলে ভাজকেজ উপস্থাপিত একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবেও হাজির হয়েছিলেন মেসি।