জুলাই অভ্যুত্থানে রাজশাহী নগরীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত দুই ছাত্র আলী রায়হান ও সাকিব আনজুম হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, খায়রুজ্জামান লিটনসহ ২৪৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খলিলুর রহমান গত মঙ্গলবার রাজশাহী মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, এজাহারে উল্লেখ থাকা আসামি ছাড়াও বেশ কিছু অজ্ঞাতনামা আসামির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদের নাম অভিযোগপত্রে সংযুক্ত করা হয়েছে। আলী রায়হান হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে ১২৭ জনকে। এর মধ্যে এজাহারনামীয় আসামির বাইরে ৭৮ জন। সাকিব আনজুুম হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে ১১৭ জনকে। এর মধ্যে এজাহারনামীয় আসামির বাইরে ৭৪ জনের নাম এ মামলায় সংযুক্ত হয়েছে।
গত বছর ৫ আগস্ট দুপুরে নগরীর শাহ মখদুম কলেজ এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপকমিশনার গাজিউর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, রাজশাহীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার যেসব মামলা ছিল তার মধ্যে নয়টি মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী নগরীতে জুলাই মাসের অভ্যুত্থান চলাকালে নিহত দুই শিক্ষার্থী আলী রায়হান ও সাকিব আনজুম হত্যা মামলারও চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
তিনি বলেন, তদন্তে আমরা মিডিয়াসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রাপ্ত ভিডিওগুলো গুরুত্ব দিয়েছি। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ও আমাদের সোর্স দ্বারা এ অভিযোগপত্রটি প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষ করে আদালত প্রমাণযোগ্য অকাট্য তথ্য ও প্রমাণের বিশ্লেষণ করেই অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
উপকমিশনার গাজিউর রহমান আরও বলেন, এজাহারনামীয় আসামির বাইরেও অজ্ঞাতনামা অনেক আসামি ছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বিভিন্ন সোর্স, সাক্ষী ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওইদিন ওই সময়ে যাদের ওই ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে এবং এর বাইরে যাদের এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদেরই এ চার্জশিটে নাম দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলী আশরাফ মাসুম বলেন, আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কিছু মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এগুলো ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন আদালতে যাবে। তবে পুলিশ যে অভিযোগপত্র দিচ্ছে বা তার যে বিশ্লেষণগুলো দিচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে অভিযোগগুলো প্রমাণ করা যাবে। এসব মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ অনুযায়ী দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে।