ইন্দোনেশিয়া

বিক্ষোভের মধ্যে নাচের ভিডিও, এমপির বাড়ি থেকে জামাকাপড়, চেয়ার-টেবিল লুট

ইন্দোনেশিয়ার আইনপ্রণেতাদের আর্থিক সুবিধার বিরুদ্ধে এক বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে পুলিশের গাড়িচাপায় নিহত হন আফ্ফান কুরনিয়াওয়ান নামের একজন মোটরসাইকেলচালক। তার মৃত্যুর পর থেকে বিক্ষোভে উত্তাল ইন্দোনেশিয়া।

বিক্ষোভ চলাকালে সামাজিক মাধ্যমে এক এমপির নাচের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে আরও ক্ষুব্দ হয়ে যায় আন্দোলনকারী। এক পর্যায়ে এমপির বাসায় লুটপাট ও ভাঙচুর চালায় জনতা।

এছাড়াও বিক্ষোভকারীরা প্রাদেশিক পার্লামেন্ট ভবন ও অন্যন্য স্থানীয় আইনপ্রণেতাদের বাসায়ও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। দেশটির রাজধানী জাকার্তার উপকণ্ঠের সাউথ টাঙ্গেরাং শহরে অর্থমন্ত্রী শ্রী মুলিয়ানি ইন্দ্রাওয়াতির বাড়িতেও লুটপাট করা হয়।

এছাড়া গত ৩০ আগস্ট রাতে প্যান পার্টির সংসদ সদস্য একো হেনদ্রো পুরনোমোর (যিনি একো পাত্রিও নামেই বেশি পরিচিত) বাড়িতে ঢুকে পড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ জাকার্তার কুনিঙ্গান এলাকায়। রাত ৭টা থেকে একো পাত্রিওর বাসভবন এলাকার সামনে জনতা জড়ো হয়।

ইন্দোনেশিয়ান সংবাদ মাধ্যম নারাসি টিভি জানিয়েছে, ওই ভাঙচুরে শত শত মানুষ অংশ নেয়। যদিও ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় সশস্ত্র বাহিনীর কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী ওই এলাকায় মোতায়েন ছিল তবে জনতা শেষ পর্যন্ত আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।

বিক্ষোভকারীরা একো পাত্রিওর বাড়ি থেকে নানা জিনিসপত্র লুট করে। এর মধ্যে ছিল জামাকাপড়, চেয়ার, টেবিল এবং অন্যান্য গৃহস্থালি আসবাবপত্র।

ঘটনাটিকে ঘিরে জনসাধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক ব্যবহারকারী এই গণঅভিযানকে সংসদ সদস্যদের বেতন বৃদ্ধির ইস্যুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সমর্থন জানায়।

সম্প্রতি সংসদ সদস্য একো পাত্রিওকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। কেননা দেশটিতে যখন সংসদ সদস্যদের বেতন বৃদ্ধির নিয়ে বিক্ষোভ চলছিল তখন তার একটি নাচের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়ানোর পর জনতার ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।

একো পাত্রিওর বাড়ির ঘটনা কোনো একক ঘটনা নয়। একই দিনে নাসদেম দলের সংসদ সদস্য আহমাদ সাহরোনির বাড়িও জনতার লক্ষ্যবস্তু হয়।

আহমাদ সাহরোনির বাড়িতে জনতা কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং টেলিভিশন, ডিজাইনার হ্যান্ডব্যাগ, আর্ট ফিগারসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে। এই প্রতিবাদগুলো কেবল অসন্তোষ প্রকাশের জন্য নয়, বরং কর্মকর্তাদের (যাদের দুর্নীতিগ্রস্ত বলে ধরা হয়) বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতি করার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে বলে মনে করছেন দেশটির বিশ্লেষকরা।