কর কেলেঙ্কারির জেরে ব্রিটেনের উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের পরেই দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে তার নামই উচ্চারিত হচ্ছিল। তবে সম্পত্তি সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির বিষয়টি মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন তুললে রেইনারকে শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিতে হয়।
গত মে মাসে ইংল্যান্ডের হোভ এলাকায় প্রায় আট লক্ষ পাউন্ড মূল্যের একটি ফ্ল্যাট কেনার সময় স্ট্যাম্প ডিউটি কর পরিশোধ না করায় এই কেলেঙ্কারি হয়। ৪৫ বছর বয়সী এই গ্রেটার ম্যানচেস্টারের লেবার পার্টির শীর্ষ নেত্রী ওই ফ্ল্যাটকে নিজের প্রধান বাসভবন হিসেবে দাখিল করলেও তার প্রকৃত প্রধান বাসভবন ছিল অ্যাশটন-আন্ডার-লাইনে। এভাবে তিনি প্রায় ৪০ হাজার পাউন্ড কর কম দিয়েছিলেন বলে খবরে প্রকাশ পায়।
এ ঘটনায় সারা দেশে হইচই পড়ে যায়। মিডিয়ার তদন্তে কর সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চাপের মুখে বুধবার রেইনার নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, তিনি ভুল আইনি পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করেছেন। দ্বিতীয় বাসভবনের জন্য বেশি হারে কর দেওয়ার বদলে তাকে প্রধান বাসভবন হিসেবে দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ২০২৩ সালের বিবাহবিচ্ছেদ এবং ছেলের আজীবন শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মতো জটিল ব্যক্তিগত পরিস্থিতিও তার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এই কেলেঙ্কারি রেইনারের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে ব্যাপক আঘাত হানে। কারণ, অতীতে তিনি কনজারভেটিভ মন্ত্রীদের অনিয়মের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। এবার বিরোধী দল, বিশেষ করে কনজারভেটিভ নেতা কেমি বেডেনোক এবং শ্যাডো চ্যান্সেলর মেল স্ট্রাইড তার পদত্যাগ দাবি করেন।
উল্লেখ্য, মাত্র ১৬ বছর বয়সে মা হন রেইনার। এরপর ব্রিটেনের রাজনীতিতে ধূমকেতুর গতিতে তার উত্থান ঘটে। কিন্তু কর কেলেঙ্কারির এই ঘটনায় তার রাজনৈতিক জীবন এখন সংকটের মুখে।