গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও অন্যান্য নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংহতি সমাবেশ করেছে দলটি।
আজ শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শাহবাগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে-প্রথমত, নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর নির্মম হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে শাস্তি নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের মিত্রদল জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোটের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, তাদের নিবন্ধন বাতিল এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা। তৃতীয়ত, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ। তবে তিন দফা দাবি হলেও সমাবেশে বেশিরভাগ বক্তাই জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে যোগ দেয় বিএনপি ও জামায়াতসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের নেতারা। মঞ্চে ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন্দ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী দলের নেতারা।
সমাবেশে রাশেদ খান বলেন, নুরুল হক নুরের ওপর হামলার সাথে বিভিন্ন বাহিনীর জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা নুরের ওপর হামলা করেছে তারা আওয়ামী দোসর। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কেউ এর দায় এড়াতে পারবে না। হামলা তদন্তে গঠিত কমিটিকে স্বাগত জানাই।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা ক্লোজড চ্যাপ্টার। শেখ হাসিনার মতো তার দোসর জাতীয় পার্টিরও বিচার হতে হবে। নুরের ওপর কারা হামলা করেছে তা পুরো জাতি দেখেছে। এ ঘটনার দ্রুত বিচার না হলে সকল দল মিলে আন্দোলন শুরু করবো।
এদিকে, জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, যারা নুরুল হক নুরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ হয়েছে তারা কীভাবে নির্বাচনে নিরাপত্তা দিবে?
উল্লেখ্য, গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন নুরুল হক নুর। তার মাথায় আঘাত এবং নাক ভেঙে যায়। এখনও তিনি পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন। চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।