বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টায় বগুড়ায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাবার মতো মেয়েও নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে। বাবা বাকশাল কায়েম করেছিল, গণতন্ত্র হত্যা করেছিল। ভারতের মদদে শেখ হাসিনাও তাই করার চেষ্টা করেছিল। অন্যদিকে ১০ হাজার মাইল দূর থেকে তারেক রহমান জুলাই বিপ্লবের জমি চাষ করেছিলেন। সেই বিপ্লবে শেখ হাসিনা পালিয়ে আবারও ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এ দেশের জিয়ার সৈনিকদের লাশ পড়েছিল শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গার তীওে ও রাস্তাঘাটে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার লুট করেছিল শেখ হাসিনা। কারণ তারা ভারতের তাবেদারি করার জন্য ক্ষমতায় ছিল। ভারতও তাদের বারবার সমর্থন করে গেছে। বিগত ১৭ বছর আমাদের দেশের মানুষকে উন্নয়নের নামে প্রতারণা করা হয়েছে। দেশের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তারেক রহমান লড়াই করে গেছেন ১৭ বছর ধরে। তারই দেখানো পথে জুলাই বিপ্লব হয়েছে। রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেছিলেন এ দেশের মানুষকে পরিপূর্ণ করার জন্য। তিনি ১৯ দফা দিয়ে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন অর্থনীতি, উৎপাদনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতকে এগিয়ে নিতে। যে দেশের মানুষ নোঙরখানায় খাবার নিত, সেই দেশ থেকে জিয়াউর রহমান খাদ্য রপ্তানি শুরু করেছিলেন। ঠিক সেভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে ৩১ দফা দিয়েছেন তারেক রহমান। সেই ৩১ দফায় আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে। দেশ হবে প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ, ক্ষুধা, দুর্নীতি, দরিদ্র ও বেকার মুক্ত বাংলাদেশ।
শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনের আহ্বানে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাহবুবুল ইসলাম, কাজী রফিকুল ইসলাম, আলী আজগর তালুকদার হেনা, জয়নাল আবেদীন চাঁন।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ উন নবী সালাম ও কেএম খায়রুল বাসারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলেরসহ সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. লোহানী, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. আওয়াল, জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।