ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামী ট্রান্সফার কার? উত্তরটা সহজ—২০১৭ সালে নেইমারকে বার্সেলোনা থেকে কিনতে ২২২ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছিল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। একই মৌসুমে মোনাকো থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ১৮০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে দলে ভেড়ায় ফরাসি জায়ান্টরা। এরপর আর কেউ ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি।
কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো—এই অঙ্কের প্রকৃত মূল্য কতটা? ২০১৫ সালের ১০০ মিলিয়ন ইউরো আর ২০২৫ সালের ৫০ মিলিয়ন ইউরোর শক্তি এক নয়। আবার পিএসজির মতো বিত্তশালী ক্লাবের ব্যয় আর রিয়াল বেতিস বা মার্সেইর ব্যয়ের ওজনও এক নয়। তাই ক্লাবের বার্ষিক আয়ের তুলনায় ট্রান্সফার খরচ হিসাব করলেই বের হয় ভিন্ন চিত্র।
নেইমারের ট্রান্সফার ফি পিএসজির ২০১৭-১৮ মৌসুমের আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ। সাধারণত বড় ক্লাবগুলো সবচেয়ে দামি সাইনিংয়ে খরচ করে রাজস্বের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। নেইমারের ক্ষেত্রে তা ছিল দ্বিগুণের মতো। কিন্তু নেইমারের চেয়েও ভারী বোঝা বইতে হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদকে। ২০০১ সালে জিনেদিন জিদানকে জুভেন্টাস থেকে আনতে তারা দিয়েছিল ৭৭.৫ মিলিয়ন ইউরো—যা ক্লাবের সেই সময়কার আয়ের ৫১ শতাংশ। ২৯ বছর বয়সী খেলোয়াড়ের জন্য এত ব্যয়ই গ্যালাক্টিকোস যুগের সূচনা করেছিল।
আরও চমকপ্রদ উদাহরণ হলো ১৯৯৮ সালে রিয়াল বেতিসের ডেনিলসনের ট্রান্সফার। মাত্র ২০ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ানকে কিনতে ৩০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছিল ক্লাবটি। সঠিক রাজস্ব তথ্য না থাকলেও অনুমান করা হয়, এটি তাদের মোট আয়ের অন্তত ৬০ শতাংশ ছিল। ওই সময় ডেলোয়েটের তালিকায় শীর্ষ ২০ ধনী ক্লাবের শেষ দিকে থাকা সেল্টিকের আয় ছিল ৫০ মিলিয়ন ইউরো। বেতিস তার চেয়েও নিচে থাকায় বোঝাই যায়, ডেনিলসনের ফি ছিল অস্বাভাবিক বেশি।
বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবগুলো এক মৌসুমেই ট্রান্সফারে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করছে। তবে শুধু অঙ্ক দেখলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। কারণ গবেষণা বলছে, যে খেলোয়াড়দের জন্য ক্লাব রাজস্বের ১৫-২০ শতাংশ খরচ করে, তারা সাধারণত দলের হয়ে ৭০ শতাংশ ম্যাচে খেলেন। কিন্তু এ হার ১০ শতাংশে নামলে খেলোয়াড়দের খেলার সময় নেমে আসে অর্ধেকে।
এই কারণেই ভিক্টর গিয়োকেরেসকে ৬৫.৮ মিলিয়ন ইউরোতে কিনলেও আর্সেনালের জন্য তা ‘নেইমার স্তরের’ বড় বিনিয়োগ নয়। আর্সেনালের মতো রাজস্ববহুল ক্লাবের জন্য এটি সাধারণ ব্যয় মাত্র। অতএব, অর্থের প্রকৃত মূল্য বিবেচনায় ফুটবলের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ট্রান্সফারের শীর্ষে নেইমার নন। ইতিহাসের পাতা উল্টালে জিদান কিংবা ডেনিলসনের মতো সাইনিংগুলোই আসল রেকর্ড ভাঙা চুক্তি হয়ে দাঁড়ায়।