রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় নিজেকে 'ইমাম মেহেদী' দাবিদার নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
গতকাল শুক্রবারের তাণ্ডবের পর থেকে দরবারের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং উৎসুক জনতা ধ্বংসস্তূপ দেখতে ভিড় করছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ৩ হাজার থেকে ৩৫০০ জনকে আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপ-পরিদর্শক সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম।
জানা যায়, গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর 'ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি'র পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা নুরাল পাগলের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই সহিংস ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের দুটি গাড়ি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িও ভাঙচুর করে।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামলায় মোট ২২ জন আহত হন। এর মধ্যে ১৯ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন পথিমধ্যে মারা যান। বাকি তিনজন নিরাপত্তার কারণে স্বেচ্ছায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে যান। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।