ইন্দোনেশিয়ার বিক্ষোভে পুলিশের বন্দুকের সামনে আরেক আবু সাঈদ

বাংলাদেশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সাহসী প্রতীক আবু সাঈদ এখন ইন্দোনেশিয়ার যুবসমাজের প্রেরণার উৎস। জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে ষোল বছরের স্বৈরশাসনের পতন ত্বরান্বিত হয়।

শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলাকালে পুলিশের বন্দুকের সামনে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তিনি দুই হাত প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে দাঁড়ান। কিন্তু কে জানত, ফ্যাসিস্ট আদর্শে অনুপ্রাণিত পুলিশ বাহিনী তার বুকে সরাসরি গুলি চালাবে? এভাবে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করবে এক অকুতোভয় যোদ্ধাকে!

স্বৈরাচারের অনুগত তৎকালীন পুলিশ বাহিনী সেই ভয়ঙ্কর কাজটিই করে। আবু সাঈদের বুকে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি মাটিতে বসে পড়েন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়; এই বীর যোদ্ধাকে আর বাঁচানো যায়নি।

আবু সাঈদের হাত প্রসারিত করে দাঁড়ানোর সেই ঐতিহাসিক ছবি বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। এখন ইন্দোনেশিয়ার আন্দোলনে একই দৃশ্য দেখা গেল। সেখানেও এক যুবক আবু সাঈদের মতোই হাত প্রসারিত করে পুলিশের বন্দুকের নলের সামনে নির্ভীকভাবে দাঁড়িয়েছে। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশের আবু সাঈদের ভাইরাল হওয়া ছবিই তাকে এমন সাহসী প্রতিবাদে উদ্বুদ্ধ করেছে।

ইন্দোনেশিয়ায় সংসদ সদস্যদের অতিরিক্ত ভাতা ও সুবিধা বাতিলের দাবিতে দেশটিতে গণবিক্ষোভ চলছে। আবু সাঈদের এই প্রতীকী প্রতিবাদ যেন ইন্দোনেশিয়ার চলমান সামাজিক ন্যায়বিচার আন্দোলনেও নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে। ইন্দোনেশীয় যুবকের প্রতিরোধের মুহূর্তটি এখন আবু সাঈদের ছবির মতোই ভাইরাল। দুজনের ছবিকে পাশাপাশি রেখে ‘সাহস’ ও ‘নির্ভীকতা’র আন্তর্জাতিক প্রতীক হিসেবে তুলনা করা হচ্ছে। এতে হিরো বাংলাদেশের বীর যোদ্ধা আবু সাঈদ।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি ছবি নয়, বরং বৈশ্বিক সংহতির প্রতীক। প্রতিবাদের ভাষা ভিন্ন হলেও সাহসের ভাষা সর্বত্র এক। বাংলাদেশের একজন সাধারণ তরুণ থেকে আজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের জীবন দেওয়া এক আন্তর্জাতিক প্রতিরোধের অনুপ্রেরণার নাম আবু সাঈদ।