বামপন্থী বুদ্ধিজীবী, লেখক ও গবেষক বদরুদ্দীন উমর মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৯৪ বছর।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
আজ রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তিনি মারা যান।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বদরুদ্দীন উমর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে তার পেশাজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। ১১ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষ করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংগ্রামে নামেন। তাঁর পিতা আবুল হাশিম ছিলেন ভারত উপমহাদেশের একজন খ্যাতনামা রাজনীতিক।
বদরুদ্দীন উমর বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এক সময় তিনি পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন এবং এর সভাপতির দায়িত্ব নেন।
নিজের জন্মের কথায় বদরুদ্দীন উমর ‘আমার জীবন’ গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন, আমার জন্ম হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহরে ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর, রবিবার, দুপুর দুটোয়।
চলতি বছর লেখক ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমরসহ ৮ বিশিষ্টজনকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। তবে বদরুদ্দীন উমর নিজেই পুরস্কারটি প্রত্যাখ্যান করেন।
এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ১৯৭৩ সাল থেকে আমাকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আমি সেগুলোর কোনোটি গ্রহণ করিনি। এখন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে। তাদের ধন্যবাদ। তবে এই পুরস্কারও গ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে আমি তা জানিয়ে দিচ্ছি।
ষাটের দশকে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন আর ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে তাঁর লেখা বইগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বদরুদ্দীন উমরের অসংখ্য বইয়ের মধ্যে আছে- সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৬), সংস্কৃতির সংকট (১৯৬৭), সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৮), পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি (১ম খণ্ড ১৯৭০, ২য় খণ্ড ১৯৭৬ ও ৩য় খণ্ড ১৯৮১), চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে বাঙলাদেশের কৃষক (১৯৭২), যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ (১৯৭৪), ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (১৯৮০)।