মার্কিন হুমকির বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার পাশে থাকার আশ্বাস ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামরিক হুমকির মুখে ভেনেজুয়েলার প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

এক টেলিফোন আলাপে আরাঘচি ও ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল পিন্টো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন যা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটনের অবৈধ হুমকির কথা উল্লেখ করে আরাঘচিকে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি ইরানের নীতিগত অবস্থানের প্রশংসা করে বলেন, জাতিসংঘ সনদের লক্ষ্য ও নীতিমালা রক্ষায় ইরান সবসময় অটল থেকেছে। একই সঙ্গে তিনি ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্বও তুলে ধরেন।

গিল পিন্টো জোর দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণ দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে তাদের স্বাধীনতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রক্ষা করে যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ব্রিকস সদস্যদেশগুলো ও অন্যান্য দক্ষিণ আমেরিকান দেশগুলো ওয়াশিংটনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেবে।

আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ও দমনমূলক নীতির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের হুমকি জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এক গুরুতর হুমকি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল সরকারগুলোকে আইনহীনতা ও অস্থিরতা রোধে পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি মার্কিন দমননীতির বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলাবাসীর পাশে থাকার এবং পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই টেলিফোন আলাপটি হয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে। মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ আখ্যা দিয়ে ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় সমুদ্রসীমায় তিনটি ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন।

একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তার মাথার দাম বাড়ানো হয়েছে। এসব পদক্ষেপে আঞ্চলিক উত্তেজনা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে।

ইরান ও ভেনেজুয়েলা উভয়েই যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে। তারা জ্বালানি, বাণিজ্য ও প্রযুক্তিখাতে সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের জোটকে শক্তিশালী করেছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে জোর দিয়ে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একে অপরের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমর্থন অব্যাহত রাখবে।