নওগাঁ সরকারি কলেজ

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল আহ্বায়কের ওপর হামলা

নওগাঁ সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের ১ম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত ফি নেওয়ার প্রতিবাদ করায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুনায়েদ হোসেন জুনের ওপর কলেজের সেন্ট্রাল মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা করার অভিযোগ উঠেছে কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর থেকে জুনায়েদ হোসেন জুন কলেজের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন। তবে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সামসুল হক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, রাবিবার থেকে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর রবিবার ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবে। ভর্তি ফি নিয়মিত ছাত্রদের জন্য ৩ হাজার ৪৯১ টাকা এবং ছাত্রীদের জন্য ৩ হাজার ২৫১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেকল শিক্ষার্থীদের পাঠ বিরতি আছে তাদের জন্য আরও ১৫০ টাকা যোগ হবে।

শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল ৯টা থেকে কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজের ভর্তি শাখায় যান কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুনায়েদ হোসেন জুন। সেখানে ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলেন তিনি। পরে অধ্যক্ষ প্রফেসর সামসুল হক ও অন্য শিক্ষক-কর্মচারীরা তাকে বুঝিয়ে কলেজ চত্বরে নিয়ে আসেন। এ সময় তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করে কলেজের স্টাফরা। তাকে মারধরের আগে কলেজের সেন্ট্রাল মাইকে ঘোষণা করা হয় কলেজের এক কর্মচারীকে কেউ মারধর করছে। ঘোষণা দেওয়ার পর কলেজ প্রশাসনের ১৫-২০ জনের একটি দল জুনায়েদ হোসেনের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে। এ ঘটনার পর থেকে জুনায়েদ হোসেন হামলার বিচারের দাবিতে কলেজের মূল ফটের সামনে অবস্থান নেন। তারপর ছাত্রদলের নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

নাম প্রকাশে না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী জানান, মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় এক কর্মচারীকে মারধর করা হচ্ছে। এরপর শহিদ মিনারের পাশে মারধরের আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। পরে সেখানে গিয়ে দেখি জুনায়েদ হোসেনকে মারধর করা হয়েছে।

উচ্চ মাধ্যমিকের ১ম বর্ষে শিক্ষার্থ ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুনায়েদ হোসেন জুন জানান, কলেজে একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে কলেজ প্রশাসনকে ফি কমানোর অনুরোধ করেছিলাম। বিষয়টা বিবেচনার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়। তখন কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়ে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন তিনি।

তিনি জানান, কলেজ অধ্যক্ষ তাকে কলেজ চত্বরে শহিদ মিনারের দিকে নিয়ে যান। এ সময় মাইকে ঘোষণা দিয়ে কলেজের স্টাফরা তার ওপর স্ট্যাম্প, বাঁশ এবং লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। এ ঘটনায় অধ্যক্ষসহ সব অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে কলেজের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন তিনি।

নওগাঁ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সামসুল হক জানান, কলেজের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ফি বৃদ্ধি করা যায়। চলতি বর্ষে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জুনায়েদ ভর্তি শাখায় কক্ষে গিয়ে বসে ছিল এবং অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে বলে জানায়। যেহেতু ওই কক্ষে মূল্যবান কম্পিউটারসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি ছিল সেখানে বিশৃঙ্খলা হতে পারে জন্য প্রথমে তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলি। সে কোনোভাবেই আমাদের কথা শুনছিল না। তখন কর্মচারীরা যেভাবেই হোক বের করে দিয়েছে। আমি শুনেছি কর্মচারীদের সঙ্গে তার হাতাহাতি হয়েছে।

এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।