মালয়েশিয়ায় পাচারের সময় দুই কিশোর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ 

কক্সবাজারের টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (২ বিজিবি) সদস্যরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুইজন কিশোর ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে। এ সময় একজন মানব পাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হলেও আরেকজন পালিয়ে যায়।  

আটক মানবপাচারকারী কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সৈয়দ আলমের ছেলে রাসেদ ও পলাতক আসামি টেকনাফ বরইতলী এলাকার মৃত ছিদ্দিকের ছেলে নুর হাসান। 

উদ্ধার হওয়া ভিকটিমরা হলেন - কক্সবাজার লাল দিঘির পাড় এলাকার আইয়ুব খানের ছেলে মো. মাহিম (১৫) ও একই এলাকার জসিমের ছেলে সোহেল।  

বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান। 

নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে মায়ানমারে মানব পাচারে একটি চক্র সম্প্রতি সক্রিয় হয়েছে। আরো জানা যায় যে, চক্রটি বাংলাদেশে অবস্থানরত ১ জন এফডিএমএন সদস্যের দ্বারা ২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্ত দিয়ে মায়ানমারে পাঠাবে। পাচারকারীদের অপতৎপরতা রুখতে, ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে, ২ বিজিবির বেশ কয়েকটি আভিযানিক দল এবং নিজস্ব গোয়েন্দারা মাঠে নামে। প্রাথমিকভাবে পাচারকারীরা ভুক্তভোগী কিশোরদের নিয়ে কক্সবাজার হতে বড়ইতলি আসে এবং বিজিবির তৎপরতা লক্ষ্য করে কেরানতলী এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় সাড়াশি অভিযান চালিয়ে ২ জন বাংলাদেশি কিশোরকে উদ্ধার এবং পাচারকারী চক্রের ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে নূর হাসান নামে একজন পাচারকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মায়ানমারে মানবপাচারের বিষয়ে সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়। ধৃত আসামি জানায়, মায়ানমারের অভ্যন্তরে অবস্থানরত পাচারকারী চক্রের একজন সদস্য আমিন এবং তার যোগসাজশে বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে মায়ানমারে পাঠানো হয়। পরে ক্ষেত্রবিশেষে তার সহযোগিতায় ভুক্তভোগীদেরকে মায়ানমার হয়ে মালয়েশিয়া গমনের ব্যবস্থা করা হয়। 

গ্রেপ্তার মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান বিজিবির ওই কর্মকর্তা ।