আসন সীমানা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের অন্তর্গত দুইটি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। অবরোধের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুইপাশে অন্তত ৫ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর যান চলাচল শুরু করে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকায় সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীর, জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও গণঅধিকার পরিষদ এর নেতাকর্মীসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজন অংশ নেন।
এর আগে (৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন থেকে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ও বুধন্তি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসন থেকে সরিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে যুক্ত করে।
অবরোধ চলাকালে সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহজাহান সিরাজ, উপজেলা জামায়াতের আমির মো. শাহজাহান ভূ্সইয়া, জাতীয় নাগরিক পার্টির আশুগঞ্জ উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারীসহ বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসন সবসময় অবহেলিত। এই আসন নিয়ে নতুনভাবে ষড়যন্ত্র চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই আসনে বিজনগর উপজেলার চান্দুরা ও বুধন্তি ইউনিয়নকে যোগ করা হয়েছে। যা আমাদের আশুগঞ্জ উপজেলার কারো সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্নকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
তারা আরও বলেন, অবিলম্বে বিজয়নগরের চান্দুরা ও বুধন্তি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসন থেকে বাদ দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে পুনর্বহালের দাবি জানান। অন্যথায় রেলপথ, নৌপথ ও সড়কপথ অবরোধসহ আরো কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুমকী দেন বক্তারা।
সভায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও গণঅধিকার পরিষদ এর নেতাকর্মীসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজন অংশ নেন।