ফরিদপুর ৪ আসন থেকে দুটি ইউনিয়ন কেটে অন্য আসনে সম্পৃক্ত করার প্রতিবাদে সকাল থেকেই আন্দোলনে নেমেছে সংসদীয় ৪ আসনের বিক্ষুব্ধ হাজারো মানুষ।
ভাঙ্গা উপজেলার আলগি ও হামিরদি ইউনিয়ন পুন: বিন্যাস করে ফরিদপুর ২ আসনের (নগরকান্দা সালথা)র সঙ্গে সম্পৃক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। এরপর থেকেই গত শুক্রবার আন্দোলন শুরু করে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
পরবর্তীতে আজ সকাল থেকে ফরিদপুর বরিশাল মহাসড়কের পুখুরিয়া, সদরদী ও ঢাকা কোনা মহাসড়কের পৌরসভার সামনে রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ মানুষ অবস্থান নিয়েছে। সড়ক অবরোধের ফলে সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে সকল ধরনের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
এ সময় তারা দক্ষিণ বঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসাবে বিবেচিত ভাঙ্গা চৌরাস্তা মোড়ে অবরোধ করে। ফলে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা মুখি সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসন এসে তিন দিনের সময় চেয়ে বিক্ষোভকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। ফলে শুক্রবার বিকেল থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন থেকে আর কোনো উত্তর না পেয়ে এবং আন্দোলনকারীদের দাবি না মানায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই ফের মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয়রা।
এ সময় তারা ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-বরিশাল এবং ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের অন্তত ১৫টি স্থানে গাছের গুড়ি ফেলে, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে থাকে। এ সময় দূর পাল্লার কয়েক হাজার যানবাহন মহাসড়কের তিন পাশে আটকে পড়ে। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন যাত্রীরা। অনেকেই পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ফরিদপুর ৪ আসন থেকে যে দুটি ইউনিয়ন কেটে নেওয়া হয়েছে সে দুটি ইউনিয়ন পুনরায় ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তারা মহাসড়ক ছেড়ে যাবেন না। আন্দোলনকারীরা আরো জানান, উচ্চপর্যায় থেকে আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তবে সকাল থেকে চলা এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে আজকের মধ্যে আন্দোলনকারীদের দাবি মানা না হলে আগামীকাল থেকে এ আন্দোলনের রূপ নিবে অন্যভাবে। তারা আন্দোলন থেকে জানিয়েছেন, আগামীকাল সকাল থেকে ফরিদপুর কুষ্টিয়া যশোর বেনাপোল ও ঢাকা চলাচলরত সকল রেল অবরোধ কর্মসূচি পালন করবেন। এছাড়া কাফনের কাপড় পড়ে রাস্তায় আন্দোলন করারও হুশিয়ার উচ্চারণ করেন।