'থাকছি দুবাইয়ে অথচ সব ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি আবুধাবিতে এটা অস্বাভাবিক'

এশিয়া কাপ ২০২৫ শুরু হলো এক ভিন্ন আমেজে—ট্রফি উন্মোচিত হলো দুবাইয়ে, অথচ বেশিরভাগ ম্যাচ বসছে আবুধাবিতে। এর মধ্যেই ক্রিকেটারদের মধ্যে খানিক অস্বস্তি দেখা দিয়েছে, যদিও সরাসরি সমালোচনায় না গিয়ে সবাই কূটনৈতিক ভঙ্গিতে কথাগুলো বলছেন।

আফগানিস্তানের তারকা লেগস্পিনার রশিদ খান প্রথমেই ইঙ্গিত দিলেন অসন্তোষের। দুবাইয়ে আয়োজিত ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এটা আদর্শ পরিস্থিতি নয়—আমরা নিজেদের মধ্যেই এ নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তবে মাঠে নামার পর পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে মানিয়ে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।”

তার বক্তব্যে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস সম্মতির হাসি ছড়িয়ে দিলেন। তবে বাস্তবতা হলো, ১২টি গ্রুপ পর্বের ম্যাচের মধ্যে সাতটিই হবে আবুধাবিতে—যেখানে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের সব ম্যাচ গড়াবে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সব ম্যাচ বসবে দুবাইতে। সেখানে আরও দুটি ম্যাচ খেলবে ভারত, দুটি ম্যাচ খেলবে স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত, আর লঙ্কানরা খেলবে ওমানের বিপক্ষে।

রশিদ খান সরাসরি আয়োজকদের সমালোচনা না করলেও পরোক্ষে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করলেন—“আমরা থাকছি দুবাইয়ে, অথচ সব ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি আবুধাবিতে। এটা অস্বাভাবিক। কিন্তু ক্রিকেটার হিসেবে অভ্যস্ত হতে হবে। মাঠে নামলে আর কিছু মাথায় থাকে না।”

বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলে অভিজ্ঞ রশিদ এটিকে আধুনিক ক্রিকেটের অংশ বলেই মেনে নিলেন। “অনেক দেশে দুই-তিন ঘণ্টার ফ্লাইট শেষে সরাসরি মাঠে নেমেছি। এমনকি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা উড়ে গিয়ে ম্যাচ খেলেছি। মানসিকভাবে শক্ত হতে হয়। ভ্রমণ নিয়ে অভিযোগ করলে পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ে। মাঠে নামলেই শতভাগ দিতে হয়।”

এদিকে, সূচি নিয়ে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানা গেছে, শ্রীলঙ্কার জিম্বাবুয়ে সফরের ব্যস্ত সূচির কারণেই এই জটিলতা। লঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালঙ্কা আজই দুবাইয়ে পৌঁছে সরাসরি বিমানবন্দর থেকে স্টেডিয়ামে হাজির হন। ক্লান্ত চোখে তিনি হেসে বললেন—
“ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে আমার।”