আজ (১০ সেপ্টেম্বর) ছেচল্লিশে পা রাখলেন সিনেমাপ্রেমীদের স্বপ্নের নায়িকা, ঢালিউডের অনিন্দ্য সুন্দরী সাদিকা পারভিন পপি। তবে গত কয়েক বছরের মতো এবারের জন্মদিনেও অন্তরালে একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী। প্রায় পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন তিনি। সিনেমাপাড়া এমনকি চুক্তিবদ্ধ হওয়া চলচ্চিত্র থেকেও নিজেকে দূরে রয়েছেন। কয়েক মাস আগে পপির সন্ধান না পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যখন নানা রকম গুজব প্রকাশিত হয় তাকে ঘিরে, তখনই নীরবতা ভেঙে সামনে আসেন নায়িকা। তাও সরাসরি নয়, লম্বা এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন পপি। সেখানে নিজের পরিবার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই তারকা। পাশাপাশি জানান, বিয়ে করে সংসারী হওয়ার কথাও। এরপর আগের মতোই আবারও নিজের মুঠোফোন, ফেসবুকসহ যোগাযোগের প্রায় সব ধরনের ব্যবস্থাই বন্ধ রাখেন তিনি।
পপি সর্বশেষ অভিনয় করেন ‘ডাইরেক্ট অ্যাটাক’ নামের একটি সিনেমায়। পপির চুক্তি হওয়া ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’ সিনেমাটির কাজ আবারও শুরু হবে বলে জানা গেলেও এই নায়িকা আর অভিনয়ে ফিরবেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ ব্যবস্থায় পপির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার স্বামী আদনান ও একমাত্র সন্তান আয়াতকে নিয়ে বেশ সুখে আছেন তিনি। আপাতত স্বামী, সন্তান সংসার নিয়েই ব্যস্ত তিনি। ভালো আছেন বলেও জানান তিনি।
নিজের জন্মদিন প্রসঙ্গে পপি বলেন, ‘সিনেমাতে কাজ করার সময়টাতে আসলে জন্মদিন ছিল আমার কাছে দিনব্যাপী উৎসবের মতো। আগের দিন রাত থেকে বাসায় একটা উৎসব উৎসব ভাব শুরু হতো। প্রিয়জনরা ফোন করতেন, অনেক ভক্তও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ফোন করে, শুভেচ্ছা জানাতেন। আবার কেউ কেউ বাসায় ফুল, কেক পাঠিয়ে দিতেন। কখনো কখনো সিনেমার শুটিংয়েও জন্মদিন উদযাপন করেছি বেশ উচ্ছ্বাস-উল্লাসের মধ্য দিয়ে। ‘পপি ফ্যান ক্লাব’গুলোও দেশ জুড়ে দিনব্যাপী নানান কার্যক্রম পরিচালনা করত।
বস্তির রানী সুরিয়াখ্যাত এই অভিনে
ত্রী বলেন, ‘আজকের জন্মদিন ঘরোয়াভাবেই কাটবে। আমাদের নিজস্ব কিছু এতিমখানা আছে সেখানে কোরআন খতম এবং খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হচ্ছে। জন্মদিনে আমি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি দেশের চ্যানেলগুলোর প্রতি, কারণ তারা আমার জন্মদিনে আমাকে ঘিরে নানান আয়োজন রাখত, সিনেমা, গান প্রচার করত, পত্রিকাগুলো আমাকে নিয়ে প্রতিবেদন করত। তবে জীবনের এই পর্যায়ে এসে আমি শুধু এতটুকু বরতে চাই আমার জীবন থেকে নেওয়া এই উপলব্ধি। পরিবারের জন্য সবাই দায়িত্ব পালন করবেন, কিন্তু নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত না করে, নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে পরিবারের জন্য পুরো নিবেদিত হয়ে কিছু করবেন না। কারণ পরবর্তী সময় যেন কেউ আঙুল তুলে কথা না বলতে পারে।’
বলতে বলতে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন পপি। বলেন, ‘যেহেতু সমাজে, চলচ্চিত্রে আমার একটি অবস্থান আছে। তাই আমার ভক্ত-দর্শকদের আগামী দিনের ভালোর জন্যই কথাগুলো বললাম। কারণ একজন মানুষের দেওয়া উপদেশ বা নির্দেশনায় মানুষের জীবন বদলে যায়। একটা সময় আমি মনে করতাম পরিবারের সবাই আমার। পরে সবাই যার যার মতো প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার পর দেখলাম কেউই আর আমার না। আমাকে কঠিন আঘাত দিয়ে, সমাজের কাছে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাকে শূন্য করে দিয়ে গেছে আমার মা-বোনেরা। আমি আমার ইন্ডাস্ট্রির মানুষকে সেই সময়টাতে পাশে পেয়েছি। নায়িকা পপিকে নয়, ব্যক্তি পপিকে উপলব্ধি করে তার পাশে দাঁড়িয়েছিল। আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ আমার চলচ্চিত্র পরিবারের কাছে।’
স্বামী আদনান প্রসঙ্গে পপির মন্তব্য, ‘ও আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আমাকে আগলে রেখেছে, আমাকে সাহস দিয়েছে, আমাকে সাপোর্ট করেছে। শেষে শুধু এ কথাই বলতে চাই, কেউ কেউ আমার মায়ের কথা শুনে বিভ্রান্তিতে পড়ে নিজেদের চ্যানেলের টিআরপি বাড়ানোর জন্য মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছেন বা করছেন এটা উচিত নয়। সত্য প্রকাশে আপসহীন থাকতে হয়।