লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো — আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় দুই নাম। এই দুই কিংবদন্তি তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে গেছেন। কিন্তু এই সময়েও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তারা একে অপরের সঙ্গে কতটা পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলেছেন?
সবচেয়ে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ম্যাচেই দুইজনই করলেন জোড়া গোল।
মেসি দুইবার জালের দেখা পান ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে, যেটা ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার একগুচ্ছ দাপুটে পারফরম্যান্সের অংশ।
এর ঠিক পরদিন, রোনালদো জোড়া গোল করেন আর্মেনিয়ার বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে পর্তুগালের একতরফা জয়ে, যেটি ছিল তাদের বাছাইপর্বের সূচনামাত্র। পরের ম্যাচেও করেছেন গোল।
৩৮ আর ৪০ বছর বয়সেও যখন তারা একে অপরকে টক্কর দিয়ে যাচ্ছেন। ফিরে তাকানো যাক তাদের শেষ ৫০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের দিকে_
শেষ ৫০ ম্যাচে করলেন ৪২টি গোল আর ১৭টি অ্যাসিস্ট
মেসির রুপকথার অধ্যায়
লিওনেল মেসি, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় দলে বারবার ভেঙে পড়েছেন, তিনিই কিনা শেষ ৫০ ম্যাচে করলেন ৪২টি গোল আর ১৭টি অ্যাসিস্ট। তাঁর এই পারফরম্যান্সের সূচনা ২০২১ কোপা আমেরিকার গ্রুপ পর্বে চিলির বিপক্ষে এক গোল দিয়ে। আর এরপর?
মারাকানার ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথম কোপা আমেরিকা ট্রফি। ২০২২ সালে ইতালিকে হারিয়ে ফিনালিসিমা। একই বছরে কাতারে স্বপ্নের মতো বিশ্বকাপ জয়। ২০২৪-এ দ্বিতীয় কোপা আমেরিকা জয়, যদিও ফাইনালে ইনজুরির কারণে তিনি ছিলেন না পুরোটা সময়।
এই ৫০ ম্যাচে মেসি_
গোল: ৪২
অ্যাসিস্ট: ১৭
ফ্রি কিক গোল: ৫
হ্যাটট্রিক: ৪
পেনাল্টি: ৮টির মধ্যে ৭টি সফল (৮৭.৫%)
প্রতি গোল: প্রতি ১০০ মিনিটে
ট্রফি: ৪টি
রোনালদোর যুদ্ধ
রোনালদো কখনোই হার মানতে জানেন না। পর্তুগালের হয়ে তিনি দিয়েছেন ৩৮টি গোল ও ৭টি অ্যাসিস্ট।
শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের মার্চে, লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে এক গোল দিয়ে। এরপর যদিও বড় বড় টুর্নামেন্টগুলোতে তিনি একটু পিছিয়ে পড়েন; ইউরো ২০২০ তে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হারে বিদায়, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর কাছে হার, ইউরো ২০২৪-এ ফ্রান্সের বিপক্ষে পেনাল্টিতে হার।
রোনালদোর ৫০ ম্যাচ_
গোল: ৩৮
অ্যাসিস্ট: ৭
ফ্রি কিক গোল: ১
হ্যাটট্রিক: ১
পেনাল্টি: ১৩টির মধ্যে ১০টি সফল (৭৬.৯%)
প্রতি গোল: প্রতি ১০৬ মিনিটে
ট্রফি: ১টি (২০২৫ নেশন্স লিগ)