শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দেশবরেণ্য লালনসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনকে আবারও লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার বিকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফরিদা পারভীনের স্বামী গাজী আবদুল হাকিম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সার্বিকভাবে ফরিদা পারভীনের শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। ফুসফুস আর কিডনিজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন তিনি। শরীর প্রচণ্ড দুর্বল থাকে। গত দুই দিনের চেয়ে আজকের অবস্থা খুবই খারাপ। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছেন ফরিদা পারভীন। কিছুদিন ধরে তার পরিস্থিতির বেশ অবনতি হয়েছে। সপ্তাহে দুই দিন তাকে ডায়ালাইসিস করাতে হয়। নিয়মিত ডায়ালাইসিসের অংশ হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে।
কিন্তু ডায়ালাইসিসের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। এর পর থেকে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক চিকিৎসক আশীষ কুমার চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। সংক্রমণ বেড়ে গেছে। তার জ্ঞানের মাত্রাও অনেক কম। কিডনি জটিলতার বিষয়টি তো আছে। সব মিলিয়ে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
প্রসঙ্গত, ফরিদা পারভীন ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত পরিবেশন শুরু করেন। ১৯৭৩ সালের দিকে দেশের গান গেয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ১৯৮৭ সালে সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদক পান।
২০০৮ সালে তিনি জাপান সরকারের পক্ষ থেকে ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কারও পেয়েছেন। ১৯৯৩ সালে সিনেমার গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন এই শিল্পী। এছাড়া শিশুদের লালনসংগীত শিক্ষার জন্য ‘অচিন পাখি স্কুল’ নামে একটি গানের স্কুল গড়ে তুলেছেন ফরিদা পারভীন।