দেশের সংগীতাঙ্গনে কালজয়ী প্লে-ব্যাক শিল্পী হিসেবে আলোকিত হয়ে আছেন, তাদের মধ্যে একজন রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা অন্যতম। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই গুণী সংগীতশিল্পী নিজেকে সবসময় একজন কণ্ঠশ্রমিক হিসেবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। যদিও গানের পাশাপাশি রাজনীতি ও লেখালেখির সঙ্গেও জড়িত দীর্ঘদিন ধরে। চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েই তিনি শ্রোতা-দর্শকের ভালোবাসার কনকচাঁপায় নিজেকে পরিণত করেছেন। প্রায় চার দশকের ক্যারিয়ারে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি সিনেমায় গান গেয়েছেন।
প্রথিতযশা এই কণ্ঠশিল্পী আজ পা রাখলেন জীবনের ৫৮তম বছরে। গত রাত ১২টার পর থেকেই ভক্ত-অনুরাগী ও কাছের মানুষদের কাছ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছায় ভাসছেন একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হওয়া এই কোকিলকণ্ঠী। প্রতিবারের মতো এবারের জন্মদিন নিয়েও মনের মধ্যে আলাদা বা বিশেষ কোনো উচ্ছ্বাস নেই বলে দেশ রূপান্তরকে জানান কনকচাঁপা। তিনি বলেন, ‘তবে আমার মেয়ে এবং পুত্রবধূ দিনটিকে বিশেষায়িত করে তোলার চেষ্টা করে। আবার আমার একটি গানের অনলাইন স্কুল আছে। সেই স্কুলের ছেলেমেয়েরা আজ সন্ধ্যায় আমার বাসায় আসবে। তাও আবার চল্লিশ জনেরও বেশি। তাদের জন্য রান্নাবান্নার আয়োজন থাকবে, এই নিয়ে আজ ব্যস্ত সময় কাটবে। ফাঁকে ফাঁকে হয়তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছাবার্তাগুলো পড়ব এবং জবাব দেওয়ার চেষ্টা করব। এইতো এ ভাবেই দিনটা পার করে দেব।’
অন্যদিকে কনকচাঁপার জন্মদিন ঘিরে স্যোশাল মিডিয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলসহ গণমাধ্যমেও থাকবে নানা আয়োজন। আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় চ্যানেল আইয়ের বিশেষ তারকাকথন অনুষ্ঠানে দেখা যাবে তাকে। অনুষ্ঠানে শিল্পী জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলবেন তিনি। অনুষ্ঠানে কনকচাঁপার সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন প্রখ্যাত গীতিকার মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান।
সাবিনা ইয়াসমিন ও রুনা লায়লার পর একচ্ছত্র দাপুটে সময় কাটিয়েছেন কনকচাঁপা। দেশ-বিদেশে কনকচাঁপার কোটি কোটি ভক্ত। কিন্তু নন্দিত এই গায়িকা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি তার বাকিটা জীবন সাধারণ মানুষের সেবায় পার করে দিতে চান। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কনকচাঁপা বিএনপি থেকে ‘সিরাজগঞ্জ-১’ আসনের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন। আপাতত রাজনীতিতেই বেশি সময় দিচ্ছেন কনকচাঁপা।
প্রশ্ন করা হয় রাজনীতিতে আপনি কতদূর যেতে চান? জবাবে কনকচাঁপা বলেন, ‘রাজনীতিতে কতদূর যেতে পারব জানি না। তবে আমি মানুষের কাছে যেতে চাই। আমি মানুষের এতটাই কাছে যেতে চাই সাধারণ মানুষ আমাকে হাত বাড়ালেই যেন পায়। এটা সত্যি যে একটা সময় গান দিয়ে, গান গেয়ে মানুষের মধ্যে ছিলাম, অন্তরে ছিলাম। এখনো হয়তো আছি। তবে আমি চাই আমার দাদার বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের সাধারণ মানুষের কাজে আসতে। মূলকথা হলো আমি আমার বাকিটা জীবন তাদের জন্যই ব্যয় করতে চাই।’
নতুন গান না করার কারণ হিসেবে এই গায়িকা জানান, তার সময়ের গানের সেক্টরে যারা কাজ করতেন সেসব গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক অনেকেই মারা গেছেন। এই প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করা অনেক মুশকিল হয়ে যায়।
প্রসঙ্গে কনকচাঁপা বলেন, ‘সত্যি বলতে কি ভালো বা মেলোডিয়াস গানের চেয়ে এখন আইটেম গান বেশি হিট হচ্ছে। হয়তো বা এটা যুগের চাহিদা। কিন্তু আইটেম গানের সঙ্গে সামান্য কাপড়ে যখন সিনেমার পর্দায় বা চ্যানেলে সেই গানটি আসে তখন তা আসলে দেখতে আর ইচ্ছে করে না। আর সিগনেচার ভয়েজটা তৈরি হতে একটু সময় লাগে। পরে বোঝা যায়। তবে এখন সময়টা বেশি লাগছে কারণ সব গান প্রায় একই রকম হচ্ছে। আমাদের মেলোডিয়াস গানের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।