সৌদি আরব বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। আসছে নভেম্বরে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট ফেস্টিভ্যাল (ডব্লিউসিএফ) চালু করছে তারা।
চার দিনব্যাপী এই উৎসবে থাকবে নতুন ধরনের ক্রিকেট ফরম্যাট, লাইভ বিনোদন আর সাংস্কৃতিক আয়োজন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় হবে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা ‘এফ২ ডাবল উইকেট ওয়ার্ল্ড কাপ’—যেখানে দুই খেলোয়াড়ের দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই ফরম্যাটে খেলার গতি বাড়বে, সময় কম লাগবে এবং দর্শক ও অনলাইন দর্শকদের জন্য হবে আরও রোমাঞ্চকর। এখানে অংশ নেবে ১০টি আন্তর্জাতিক দল। থাকবে নতুন কিছু নিয়মও—যেমন সুপার-সাব (স্ট্র্যাটেজিক পরিবর্তন) আর ফায়ার-বল ওভার, যা বাড়তি উত্তেজনা যোগ করবে।
ডব্লিউসিএফ আয়োজন করছে সৌদি ক্রিকেট ফেডারেশনের বাণিজ্যিক শাখা ক্রিকেট ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি। তাদের লক্ষ্য—তৃণমূল থেকে পেশাদার লিগ পর্যন্ত ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়া। প্রথম বছরেই এই উৎসব থেকে ১৩.৭৫ মিলিয়ন ডলার আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ২০২৮ সালের মধ্যে বেড়ে ৪০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এখনও কোনো তারকা খেলোয়াড়ের নাম নিশ্চিত হয়নি। তবে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার নিল ম্যাক্সওয়েল (প্যাট কামিন্সের ম্যানেজার) সৌদি টি২০ লিগ বিস্তারে কাজ করছেন। এছাড়া, অস্ট্রেলিয়ারই সাবেক ফুটবল নির্বাহী ড্যানি টাউনসেন্ড এখন সৌদি স্পোর্টস ভেঞ্চার সুর্য স্পোর্টসের প্রধান। ফলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জড়িত হলে কিছু তারকা অজি খেলোয়াড়কে দেখা যেতে পারে।
ইতিমধ্যেই প্রচারণায় যোগ দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক স্পিনার সাকলাইন মুশতাক ও ভারতের সাবেক ব্যাটার ওয়াসিম জাফর।
ডব্লিউসিএফ পরবর্তী দেড় বছরে দেশটিতে আরও কয়েকটি লিগ চালু হবে—এর মধ্যে আছে টিএক্স আরাবিয়া (টি১০ লিগ) এবং গালফ প্রিমিয়ার লিগ (জিপিএল), যেখানে সফট-বল ক্রিকেটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষও অংশ নিতে পারবে।
এই পরিকল্পনা সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর অংশ, যার লক্ষ্য অর্থনীতিকে বহুমুখী করা এবং তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো। ইতোমধ্যেই দেশটি ২০৩৪ ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার পেয়েছে, পাশাপাশি ফর্মুলা ওয়ান, লিভ গলফ সিরিজ, ডব্লিউডব্লিউই, বক্সিং, টেনিস আর ঘোড়দৌড়সহ নানা আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজন করছে।
গত মার্চে সৌদি আরবের বিনিয়োগ তহবিলের অধীনে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি আন্তর্জাতিক টি২০ লিগ চালুর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। টেনিস গ্র্যান্ড স্লামের ধাঁচে তৈরি এই লিগে থাকবে ৮টি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল, যারা প্রতি বছর চারটি আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে খেলবে। যদিও ইসিবি ও বিসিসিআই আপাতত বিরোধিতা করছে এবং তাদের খেলোয়াড়দের অংশ নিতে দেবে না বলে জানিয়েছে, তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আগ্রহ দেখিয়েছে।
আইসিসি এখনো চূড়ান্ত অবস্থান নেয়নি, তবে বিসিসিআইয়ের বিরোধিতা এড়ানো সহজ হবে না। তবুও আইসিসি আর সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। সম্প্রতি সৌদি তেল কোম্পানি আরামকো আইসিসির বৈশ্বিক পার্টনার হয়েছে।